ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলায় নিহত ১৭ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবলের শিকার রাবি শিক্ষার্থী Logo সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, মেনে নেওয়ার মতো নয়: সাদিয়া আয়মান Logo তরুণ উদ্যোক্তার খোঁজে বাকৃবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা Logo ‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ Logo বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩ Logo ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রবল বৃষ্টি-বজ্রসহ ঝড়, নিহত ১০ Logo নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ Logo নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হল কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি, মধ্যরাতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

এবার দুর্গাপূজায় ভারতে যাচ্ছে না পদ্মার ইলিশ, বন্ধ থাকবে ভারতীয় ইলিশের আমদানিও

আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবের মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানি না করার জোরালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ইলিশ মাছের আমদানিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের মাছের বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতি বছর পূজার সময় ভারতে বিশেষ কোটায় ইলিশ পাঠানোর যে দীর্ঘদিনের প্রথা ছিল, তাতে এবার বড় ধরনের ছেদ পড়তে চলেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন বাজারের ইলিশপ্রেমী ক্রেতাদের মধ্যে চরম হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে সমস্ত অভ্যন্তরীণ ছাড়পত্র আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সরকার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এবং আগামী ৭ অক্টোবর থেকে প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাওয়ায় ইলিশ আমদানির আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। ভারতীয় আমদানিকারকেরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ থমকে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন।

পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ইলিশের বাণিজ্যিক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে ভারতীয় আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ কোটায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। অতীতে এই ব্যবস্থার আওতায় ২০১৯ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বছরে পাঁচশ থেকে প্রায় দুই হাজার টন পর্যন্ত ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছে। তবে চলতি বছর বাণিজ্যের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে ভারত থেকেই উল্টো পাঁচশ টনের বেশি ইলিশ বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের নতুন সার্কুলার জারির ফলে দুই দেশের মধ্যকার এই ইলিশ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া আপাতত সম্পূর্ণভাবে থমকে গেল।

জনপ্রিয়

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলায় নিহত ১৭

এবার দুর্গাপূজায় ভারতে যাচ্ছে না পদ্মার ইলিশ, বন্ধ থাকবে ভারতীয় ইলিশের আমদানিও

প্রকাশিত ১০:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবের মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানি না করার জোরালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ইলিশ মাছের আমদানিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের মাছের বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতি বছর পূজার সময় ভারতে বিশেষ কোটায় ইলিশ পাঠানোর যে দীর্ঘদিনের প্রথা ছিল, তাতে এবার বড় ধরনের ছেদ পড়তে চলেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন বাজারের ইলিশপ্রেমী ক্রেতাদের মধ্যে চরম হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে সমস্ত অভ্যন্তরীণ ছাড়পত্র আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সরকার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেই নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এবং আগামী ৭ অক্টোবর থেকে প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাওয়ায় ইলিশ আমদানির আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। ভারতীয় আমদানিকারকেরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ থমকে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন।

পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ইলিশের বাণিজ্যিক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে ভারতীয় আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ কোটায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। অতীতে এই ব্যবস্থার আওতায় ২০১৯ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বছরে পাঁচশ থেকে প্রায় দুই হাজার টন পর্যন্ত ইলিশ ভারতে পাঠানো হয়েছে। তবে চলতি বছর বাণিজ্যের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে ভারত থেকেই উল্টো পাঁচশ টনের বেশি ইলিশ বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের নতুন সার্কুলার জারির ফলে দুই দেশের মধ্যকার এই ইলিশ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া আপাতত সম্পূর্ণভাবে থমকে গেল।