ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির Logo প্রজনন স্বাস্থ্যে নতুন প্রযুক্তির সূচনায় হাত মেলাল গুগল ও ফ্লো Logo ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান ২ ব্রিটিশ আইনজীবী Logo অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে সোবহানা-নিগারের লাফ Logo ওয়েলসে মিলল রোমান দুর্গ: সত্যি ছিল সম্রাটের ঘাঁটির উপাখ্যান Logo বিরোধী দল না এলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে: সালাহউদ্দিন Logo হেনস্তার ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. ইউনূস, জানালেন সফরসঙ্গী Logo ঢাকা-কুমিল্লা ‘এলিভেটেড কর্ডলাইন’ হচ্ছে, সময় কমবে ২ ঘণ্টা: উপদেষ্টা জাহেদ Logo ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ ভবন থেকে বের করে আনা হলো চুয়েট উপাচার্যকে Logo রূপকথার ডাইনিরা কেন ঝাড়ুতে চড়ে উড়ে বেড়ায়?

ধর্ষণ ও সিইসি বিতর্কে দিল্লি উত্তাল, এর মধ্যেই ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মোদি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন নারীদের নিরাপত্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে ভারতীয় জনসংঘের নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভজন ক্লাবিং’ নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে খঞ্জনি বাজিয়ে এবং ভক্তিমূলক সংগীতের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন, যার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ‘ভজন ক্লাবিং’ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রচলিত ভজনের সঙ্গে আধুনিক আলোর রোশনাই ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্রের এই সংমিশ্রণকে আধ্যাত্মিকতা ও তরুণ সংস্কৃতির মিলন হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের শক্তির চমৎকার মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটির নেতাদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় তরুণদের মাঝে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার এটি একটি অনন্য মাধ্যম।

তবে এই আয়োজনের সময় নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ততার টাইম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দিল্লির একটি পার্কে ঘটে যাওয়া কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ দিল্লিতে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার জেরে রাজধানীজুড়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সামাজিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনও বিরোধী দলগুলোর প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। এসআইআর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল দেশজুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। একদিকে নারী নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত রাজনৈতিক সংকটের এই যুগপৎ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

জনপ্রিয়

ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

ধর্ষণ ও সিইসি বিতর্কে দিল্লি উত্তাল, এর মধ্যেই ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মোদি

প্রকাশিত ০৮:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন নারীদের নিরাপত্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে ভারতীয় জনসংঘের নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভজন ক্লাবিং’ নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে খঞ্জনি বাজিয়ে এবং ভক্তিমূলক সংগীতের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন, যার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ‘ভজন ক্লাবিং’ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রচলিত ভজনের সঙ্গে আধুনিক আলোর রোশনাই ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্রের এই সংমিশ্রণকে আধ্যাত্মিকতা ও তরুণ সংস্কৃতির মিলন হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের শক্তির চমৎকার মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটির নেতাদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় তরুণদের মাঝে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার এটি একটি অনন্য মাধ্যম।

তবে এই আয়োজনের সময় নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ততার টাইম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দিল্লির একটি পার্কে ঘটে যাওয়া কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ দিল্লিতে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার জেরে রাজধানীজুড়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সামাজিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনও বিরোধী দলগুলোর প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। এসআইআর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল দেশজুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। একদিকে নারী নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত রাজনৈতিক সংকটের এই যুগপৎ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।