রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটির (আরইউআরএস) আয়োজনে ‘শেপিং দ্য ফিউচার থ্রু এআই অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী ‘RURS 2nd International Conference and Research Fair 2026 (RICRF26)’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ও ২ অক্টোবর (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং শহিদুল্লাহর অ্যাকাডেমিক ভবন সংলগ্ন আম বাগানে গবেষণা মেলা আয়োজিত হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিন ১ অক্টোবর সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মো. আসলাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. তারিকুল ইসলাম।
সম্মেলনের আহ্বায়ক তানজিম হাসান প্রাঙ্গনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলনের সচিব ফারজানা মাহতাব সুজানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মেলনের সহ-আহ্বায়ক মো. নাবিল বিন জাকির।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে অর্থবহ গবেষণার বিকাশ ঘটে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার মেলবন্ধনের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাধান তৈরি করা সম্ভব। তরুণ গবেষকদের গবেষণা উপস্থাপন ও একাডেমিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে আরইউআরএস কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে। গবেষণা সোসাইটির কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতিতে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তেমনি নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। গবেষকদের এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা গবেষণাকে উৎসাহিত করতে যে সংগঠন গড়ে তুলেছে, তার কার্যক্রম প্রশংসনীয়। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ। গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা অভিনন্দনযোগ্য।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর মো. আসলাম হোসেন বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে গবেষক, বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী গবেষণায় এগিয়ে আসতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির জন্য উপযোগী উদ্ভাবন করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান, বিভিন্ন অনুষদের অধিকর্তা, বিভাগীয় সভাপতি এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত ফেয়ার গ্ৰাউন্ডে বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
১ অক্টোবর সম্মেলনে ৮টি সাবথিমে ওরাল প্রেজেন্টেশন ও ৮টি সাবথিমে পোস্টার প্রেজেন্টেশন পর্বে বিভিন্ন উপ-প্রতিপাদ্যের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় প্রায় পাঁচশত নবীন গবেষক অংশ নেন। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আটটি সেশনে ৭০টি প্রবন্ধ এবং পৃথক আটটি সেশনে ৬৮টি পোস্টার উপস্থাপনের আয়োজন করা হয়।
২ অক্টোবর সম্মেলনে কী-নোট সেশন ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কী-নোট বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। সেশনে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম।
কী-নোট সেশনে অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বায়ুদূষণ, মানবস্বাস্থ্য, উদ্ভিদের স্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর এর প্রভাব এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। গবেষণা, পরিমাপ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দূষণের প্রভাব শনাক্ত করে তা কমানোর জন্য কার্যকর পদ্ধতি ও উপকরণ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এদিন সকালে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী গবেষক ও সহ-গবেষকদের জন্য রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি ও রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ পার্কে (আরসিসি পার্ক) সাইটসিইং ট্যুরের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা পুঠিয়া রাজবাড়ির ঐতিহাসিক স্থাপত্য ঘুরে দেখেন এবং আরসিসি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটান।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে গবেষকরা তাঁদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন, মতবিনিময় এবং একাডেমিক যোগাযোগের সুযোগ পান। সম্মেলনের আয়োজকদের মতে, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তরুণ গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও গবেষণা সহযোগিতার সুযোগ তৈরিই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।



































