ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার হামলা Logo মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম, অপসারণ দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের Logo মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও অপমানের নিন্দা জামায়াত আমিরের Logo আফগানিস্তানে ৭০ মিটার গভীর কূপে নেমে ৫ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১১ বছরের ওমর Logo জনসংখ্যা সংকট ঠেকাতে সিঙ্গাপুরে সরকারি ডেটিং অ্যাপ চালু Logo শাহজালালে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৮০টি সোনার বার Logo যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইতিহাস গড়ে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার Logo প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে আবিষ্কৃত ভাইরাসের ৯৯ শতাংশই বিজ্ঞানীদের অজানা Logo আলোচনার জন্য প্রস্তুত, হামলা হলে বিধ্বংসী জবাব দেবে ইরান Logo সুপার কম্পিউটারের ১১০ বছরের কাজ মাত্র ১৯ সেকেন্ডে করল কোয়ান্টাম কম্পিউটার

আফগানিস্তানে ৭০ মিটার গভীর কূপে নেমে ৫ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১১ বছরের ওমর

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশু। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় হঠাৎ করেই একটি পরিত্যক্ত ও গভীর কূপে পড়ে গিয়েছিল জাইনুল্লাহ নামের ওই শিশুটি। প্রায় ৭০ মিটার গভীর ওই কূপের তলদেশে আটকা পড়ে শিশুটি চরম বিপদের মুখে পড়েছিল। সেখানে তার পায়ের কাছে পানি জমে ছিল এবং মাথার ওপর থেকেও জল গড়াচ্ছিল। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধারের জন্য স্থানীয় মানুষ জড়ো হন।

উদ্ধারকাজটি অত্যন্ত দুরূহ ছিল কারণ কূপটির ব্যাস ছিল মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার, যার ফলে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব ছিল না। নিচে আটকে থাকা শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য প্রথমে দড়ি নামানো হলেও ভীতি ও ছোট বয়সের কারণে সে নিজের শরীরে তা বাঁধতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে অন্য আরও তিন শিশুকে নামানোর চেষ্টা করা হলেও সংকীর্ণ জায়গার কারণে তারা শ্বাস নিতে না পেরে দ্রুত ওপরে ফিরে আসে। এমতাবস্থায় উদ্ধারকারীরা অনন্যোপায় হয়ে ১১ বছরের এক সাহসী কিশোর হাজরত ওমরের সাহায্য প্রার্থনা করেন।

এর আগেও অনুরূপ একটি অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় হাজরত ওমর এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এগিয়ে আসে। প্রাপ্তবয়স্কদের শত সতর্কবার্তার পরও চাচার বিশেষ অনুমতি নিয়ে সে কূপের গভীরে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম দফায় দড়ি দিয়ে বেঁধে নামানোর সময় তার কাঁধ ও উরু সংকীর্ণ সুড়ঙ্গে আটকে যায় এবং তীব্র ব্যথায় সে চিৎকার করলে তাকে প্রথমে ওপরে তুলে আনা হয়। তবে দমে না গিয়ে সে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে কূপের সুনির্দিষ্ট তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

সেখানে পৌঁছে ওমর জাইনুল্লাহকে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং পরবর্তীতে দড়ির সঙ্গে দুজনকে নিরাপদে ওপরে তুলে আনা হয়। কূপের মুখে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ শত শত উদ্বিগ্ন মানুষ এই সফল উদ্ধারের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে তীব্র পানির সংকটের কারণে কৃষিকাজে এ ধরনের বহু গভীর ও সরু কূপ খনন করা হয়েছে। শুকিয়ে যাওয়ার পরও সেগুলোর মুখ যথাযথভাবে বন্ধ না করায় এগুলো এখন স্থানীয়দের জন্য বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার শিকার হয়েছিল ছোট জাইনুল্লাহ।

জনপ্রিয়

কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার হামলা

আফগানিস্তানে ৭০ মিটার গভীর কূপে নেমে ৫ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১১ বছরের ওমর

প্রকাশিত ০৪:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশু। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় হঠাৎ করেই একটি পরিত্যক্ত ও গভীর কূপে পড়ে গিয়েছিল জাইনুল্লাহ নামের ওই শিশুটি। প্রায় ৭০ মিটার গভীর ওই কূপের তলদেশে আটকা পড়ে শিশুটি চরম বিপদের মুখে পড়েছিল। সেখানে তার পায়ের কাছে পানি জমে ছিল এবং মাথার ওপর থেকেও জল গড়াচ্ছিল। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধারের জন্য স্থানীয় মানুষ জড়ো হন।

উদ্ধারকাজটি অত্যন্ত দুরূহ ছিল কারণ কূপটির ব্যাস ছিল মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার, যার ফলে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব ছিল না। নিচে আটকে থাকা শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য প্রথমে দড়ি নামানো হলেও ভীতি ও ছোট বয়সের কারণে সে নিজের শরীরে তা বাঁধতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে অন্য আরও তিন শিশুকে নামানোর চেষ্টা করা হলেও সংকীর্ণ জায়গার কারণে তারা শ্বাস নিতে না পেরে দ্রুত ওপরে ফিরে আসে। এমতাবস্থায় উদ্ধারকারীরা অনন্যোপায় হয়ে ১১ বছরের এক সাহসী কিশোর হাজরত ওমরের সাহায্য প্রার্থনা করেন।

এর আগেও অনুরূপ একটি অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় হাজরত ওমর এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এগিয়ে আসে। প্রাপ্তবয়স্কদের শত সতর্কবার্তার পরও চাচার বিশেষ অনুমতি নিয়ে সে কূপের গভীরে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম দফায় দড়ি দিয়ে বেঁধে নামানোর সময় তার কাঁধ ও উরু সংকীর্ণ সুড়ঙ্গে আটকে যায় এবং তীব্র ব্যথায় সে চিৎকার করলে তাকে প্রথমে ওপরে তুলে আনা হয়। তবে দমে না গিয়ে সে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে কূপের সুনির্দিষ্ট তলদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

সেখানে পৌঁছে ওমর জাইনুল্লাহকে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং পরবর্তীতে দড়ির সঙ্গে দুজনকে নিরাপদে ওপরে তুলে আনা হয়। কূপের মুখে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ শত শত উদ্বিগ্ন মানুষ এই সফল উদ্ধারের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে তীব্র পানির সংকটের কারণে কৃষিকাজে এ ধরনের বহু গভীর ও সরু কূপ খনন করা হয়েছে। শুকিয়ে যাওয়ার পরও সেগুলোর মুখ যথাযথভাবে বন্ধ না করায় এগুলো এখন স্থানীয়দের জন্য বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার শিকার হয়েছিল ছোট জাইনুল্লাহ।