ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সড়কের দুপাশে সবুজ বিপ্লব কলেজশিক্ষকের Logo ভক্তদের হৃদয় ভেঙে আলাদা হয়ে গেলেন এই জনপ্রিয় কিউট কাপল Logo প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ, কারণ জানালেন দুজন Logo জয়ের সেঞ্চুরি, রুয়েলের ৫ উইকেট Logo হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী Logo বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন পাকিস্তানের পাশে, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে ছিল: জয়শঙ্কর Logo নোবিপ্রবির ৪র্থ জাতীয় বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত Logo সন্ত্রাসী কায়দায় রাবিতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলা Logo আয়নাবাজি: দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ, পরে ধরা পড়ল জালিয়াতি Logo ভেঙে গেল প্রীতম-শাহতাজের সংসার, দিলেন বিচ্ছেদের ঘোষণা

সন্ত্রাসী কায়দায় রাবিতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলা

  • সায়েম চৌধুরী
  • প্রকাশিত ১১:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের উপর দেশীয় অস্ত্র দ্বারা হামলা চালিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

রোববার ( ৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে হলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এছাড়া আরও দশ জন সাংবাদিক আহত হন। বর্তমান তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

অভিযুক্ত রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি সাহ ছাত্রদলের প্রায় ৮ জন হামলা চালায়।

সরেজমিনে ও প্রতক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, আজ রাত ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান হল গেইটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এসময় তাদের হাতে বস্তা ভর্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ অন্যান্য বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। পরে প্রক্টর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেইটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। পরে আজকের পত্রিকা প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নিতে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে সেখানে বিডিনিউজ ২৪.কম এর প্রতিনিধিকে পেটানো শুরু করে। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভিতরে ঢুকিয়ে তালা দেন।

সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে সেখানে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে আগামীর সময় প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও অন্যান্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের পুতে ফেলার হুমকি দেন।

জানা গেছে , এ ঘটনার সূত্রপাত রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দেন৷ ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে।…’এরপর ছাত্রদলের ওই নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এসে অবস্থান নেন৷ এ সময় তারা নৃশংসভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,, এবিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ব্যর্থ আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।

 

জনপ্রিয়

সড়কের দুপাশে সবুজ বিপ্লব কলেজশিক্ষকের

সন্ত্রাসী কায়দায় রাবিতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলা

প্রকাশিত ১১:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের উপর দেশীয় অস্ত্র দ্বারা হামলা চালিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

রোববার ( ৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে হলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এছাড়া আরও দশ জন সাংবাদিক আহত হন। বর্তমান তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

অভিযুক্ত রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি সাহ ছাত্রদলের প্রায় ৮ জন হামলা চালায়।

সরেজমিনে ও প্রতক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, আজ রাত ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমান হল গেইটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এসময় তাদের হাতে বস্তা ভর্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ অন্যান্য বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। পরে প্রক্টর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেইটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। পরে আজকের পত্রিকা প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নিতে তেড়ে আসে। এক পর্যায়ে সেখানে বিডিনিউজ ২৪.কম এর প্রতিনিধিকে পেটানো শুরু করে। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভিতরে ঢুকিয়ে তালা দেন।

সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে সেখানে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে আগামীর সময় প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও অন্যান্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের পুতে ফেলার হুমকি দেন।

জানা গেছে , এ ঘটনার সূত্রপাত রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দেন৷ ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে।…’এরপর ছাত্রদলের ওই নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এসে অবস্থান নেন৷ এ সময় তারা নৃশংসভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,, এবিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ব্যর্থ আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।