ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চার দিন পর কমল সোনার দাম Logo রাশিয়ায় ল্যাবে টেস্টটিউব ভেঙে সংক্রমিত হয়ে কর্মীর মৃত্যু, ‘প্লেগ’ আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইনে ২ শতাধিক Logo গাজায় নিহত ১৭০ সাংবাদিককে ‘সন্ত্রাসী’ বলল ইসরাইল, নাকচ জাতিসংঘের Logo জন্মহার বাড়াতে এবার জুটি খুঁজে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার Logo প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ Logo হরমুজে মার্কিন তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজকে ইরানের সতর্কবার্তা Logo সালমান মুক্তাদিরকে মারধরের চেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতির সোফায় প্রধানমন্ত্রীর বসার নেপথ্যে কী? Logo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করবে প্রশাসন, তদন্ত কমিটি গঠন Logo চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের প্রতিযোগিতায় তিন পরাশক্তি Logo নতুন ঋণ পর্যালোচনায় আসছে আইএমএফ

জন্মহার বাড়াতে এবার জুটি খুঁজে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার

তীব্র জন্মহার হ্রাসের সংকটের মুখে পড়ে নাগরিকদের জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির প্রযুক্তিনিষায়ক সরকারি সংস্থা গভটেক সম্প্রতি ফার্স্টডেট নামের একটি বিশেষ ডেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে একুশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি অবিবাহিত সরকারি কর্মীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবাটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বেসরকারি ডেটিং অ্যাপগুলোর ত্রুটি ও নিরাপত্তা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের আস্থার সংকট দূর করতেই মূলত সরকারি এই হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে হলে ব্যবহারকারীদের প্রথমে নিজেদের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হয় এবং এরপর পছন্দ, অভিরুচি ও মূল্যবোধসংক্রান্ত একটি বিশদ প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এই ডেটিং প্ল্যাটফর্মটির মূল ভিত্তি হলো গেইল-শ্যাপলি নামক একটি বিশেষ অ্যালগরিদম, যা দুই পক্ষের পারস্পরিক পছন্দের অগ্রাধিকার যাচাই করে নিখুঁতভাবে জুটি নির্ধারণে সহায়তা করে। গণিতভিত্তিক এই অ্যালগরিদমের অন্যতম রূপকার লয়েড শ্যাপলি এর আগে এই অবদানের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। প্রচলিত অ্যাপগুলোতে একসঙ্গে অসংখ্য প্রোফাইল ঘেঁটে দেখার যে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়, এই ব্যবস্থায় তা দূর করে ব্যবহারকারীদের জন্য একবারে কেবল একজন সম্ভাব্য উপযুক্ত সঙ্গীকেই সামনে আনা হয়।

সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত এক জনবহুল নগররাষ্ট্রে জন্মহার কমে যাওয়ার পেছনে মূলত জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং সন্তান লালন-পালনের বিপুল আর্থিক ও সামাজিক চাপ প্রধান ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে আবাসন ও শিশুপালনের খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় অনেক নাগরিকই স্বেচ্ছায় সন্তানহীন জীবন বেছে নিচ্ছেন অথবা দেরিতে পরিবার গঠন করছেন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, গত কয়েক বছর ধরে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান জনমিতিক সংকট মোকাবিলা করার অংশ হিসেবে দেশটির প্রশাসন পরিবার গঠন ও সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করে আসছে।

ব্যক্তিগত ও প্রেমের সম্পর্কে সরকারের এই ধরনের হস্তক্ষেপ সিঙ্গাপুরের জন্য অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়, কারণ এর আগেও আশির দশকে দেশটির তৎকালীন নেতৃত্ব উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে বিবাহ ও জন্মহার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রজন্মের একাংশের মধ্যে সরকারের এই ম্যাচমেকিং প্রচেষ্টা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সংশয় দেখা গেছে। কেউ কেউ একে নাগরিক স্বাধীনতার বকি ব্যক্তিগত পরিসরে অনধিকার প্রবেশ ও বিব্রতকর বলে মনে করছেন, আবার অনেকে প্ল্যাটফর্মটির তথ্য সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তা সত্ত্বেও নিম্নমুখী জন্মহারের লাগাম টেনে ধরতে এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষম জনসংখ্যার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সিঙ্গাপুর সরকার তাদের এই প্রযুক্তিভিত্তিক প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে এগিয়ে নিতে চাইছে।

জনপ্রিয়

চার দিন পর কমল সোনার দাম

জন্মহার বাড়াতে এবার জুটি খুঁজে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার

প্রকাশিত ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

তীব্র জন্মহার হ্রাসের সংকটের মুখে পড়ে নাগরিকদের জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির প্রযুক্তিনিষায়ক সরকারি সংস্থা গভটেক সম্প্রতি ফার্স্টডেট নামের একটি বিশেষ ডেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে একুশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি অবিবাহিত সরকারি কর্মীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবাটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বেসরকারি ডেটিং অ্যাপগুলোর ত্রুটি ও নিরাপত্তা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের আস্থার সংকট দূর করতেই মূলত সরকারি এই হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে হলে ব্যবহারকারীদের প্রথমে নিজেদের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হয় এবং এরপর পছন্দ, অভিরুচি ও মূল্যবোধসংক্রান্ত একটি বিশদ প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এই ডেটিং প্ল্যাটফর্মটির মূল ভিত্তি হলো গেইল-শ্যাপলি নামক একটি বিশেষ অ্যালগরিদম, যা দুই পক্ষের পারস্পরিক পছন্দের অগ্রাধিকার যাচাই করে নিখুঁতভাবে জুটি নির্ধারণে সহায়তা করে। গণিতভিত্তিক এই অ্যালগরিদমের অন্যতম রূপকার লয়েড শ্যাপলি এর আগে এই অবদানের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। প্রচলিত অ্যাপগুলোতে একসঙ্গে অসংখ্য প্রোফাইল ঘেঁটে দেখার যে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়, এই ব্যবস্থায় তা দূর করে ব্যবহারকারীদের জন্য একবারে কেবল একজন সম্ভাব্য উপযুক্ত সঙ্গীকেই সামনে আনা হয়।

সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত এক জনবহুল নগররাষ্ট্রে জন্মহার কমে যাওয়ার পেছনে মূলত জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং সন্তান লালন-পালনের বিপুল আর্থিক ও সামাজিক চাপ প্রধান ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে আবাসন ও শিশুপালনের খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় অনেক নাগরিকই স্বেচ্ছায় সন্তানহীন জীবন বেছে নিচ্ছেন অথবা দেরিতে পরিবার গঠন করছেন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, গত কয়েক বছর ধরে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান জনমিতিক সংকট মোকাবিলা করার অংশ হিসেবে দেশটির প্রশাসন পরিবার গঠন ও সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করে আসছে।

ব্যক্তিগত ও প্রেমের সম্পর্কে সরকারের এই ধরনের হস্তক্ষেপ সিঙ্গাপুরের জন্য অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়, কারণ এর আগেও আশির দশকে দেশটির তৎকালীন নেতৃত্ব উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে বিবাহ ও জন্মহার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বর্তমান প্রজন্মের একাংশের মধ্যে সরকারের এই ম্যাচমেকিং প্রচেষ্টা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সংশয় দেখা গেছে। কেউ কেউ একে নাগরিক স্বাধীনতার বকি ব্যক্তিগত পরিসরে অনধিকার প্রবেশ ও বিব্রতকর বলে মনে করছেন, আবার অনেকে প্ল্যাটফর্মটির তথ্য সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তা সত্ত্বেও নিম্নমুখী জন্মহারের লাগাম টেনে ধরতে এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষম জনসংখ্যার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সিঙ্গাপুর সরকার তাদের এই প্রযুক্তিভিত্তিক প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে এগিয়ে নিতে চাইছে।