ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরাসরি তালিকাভুক্তিতে ফিরল বেসরকারি কোম্পানি Logo নির্বাচন কমিশন: রমজানের আগেই তিন ধাপের ইউপি নির্বাচন Logo নাটোর, পিরোজপুর, বাগেরহাট জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী Logo আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআই ইলিয়াস Logo আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ Logo সাংবাদিকদের দাবির মুখে রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি Logo প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড Logo গ্রাম সরকার পুনর্বহালের আলোচনা, ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্ত Logo বিয়ের ১৪ দিন আগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু, নিথর কপালে সিঁদুর পরালেন হবু বর

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা দুধ পান করে অন্তত ৩৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪৯ নম্বর কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করলে এলাকায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বিদ্যালয়টিতে শিশুদের মাঝে বিতরণের জন্য আনা দুধ খাওয়ার পর তাদের অনেকেরই তীব্র মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষকরা লক্ষ্য করেন যে দুধের একটি কার্টনের বেশ কিছু প্যাকেট ভেজা রয়েছে এবং সেগুলোর মধ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রধান শিক্ষক জহিদুল ইসলাম বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্যাকেটগুলো ধুয়ে শুকানোর নির্দেশ দিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাইরে চলে যান। এর মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনোয়ার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং নিজেই একটি প্যাকেট কেটে দুধ খেয়ে দেখেন। তিনি দাবি করেন যে দুধে কোনো সমস্যা নেই এবং শিক্ষার্থীদের তা খাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন। তার এই আশ্বাসের পরেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের সম্মতিতে শিশুদের মধ্যে ওই দুধ পরিবেশন করা হয়।

দুধ পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হতে শুরু করে এবং তাদের মধ্যে বমি ভাব, মাথা ঘোরানো ও পেটব্যথার উপসর্গ দেখা দেয়। চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায় যে দুধের স্বাদ অদ্ভুত লাগলেও কোম্পানির প্রতিনিধি তাদের সেটি খাওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা গণমাধ্যমকে জানান যে দুধ খাওয়ার পরপরই তাদের সন্তানদের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে এবং বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকেও নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন সকল শিক্ষার্থী যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে রাতেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিমল দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে আক্রান্ত কোনো শিশুর অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল না। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর সবাইকে নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোমলমতি শিশুদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টি কার্যক্রমে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

জনপ্রিয়

সরাসরি তালিকাভুক্তিতে ফিরল বেসরকারি কোম্পানি

পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৬ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত ০৫:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা দুধ পান করে অন্তত ৩৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪৯ নম্বর কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করলে এলাকায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বিদ্যালয়টিতে শিশুদের মাঝে বিতরণের জন্য আনা দুধ খাওয়ার পর তাদের অনেকেরই তীব্র মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষকরা লক্ষ্য করেন যে দুধের একটি কার্টনের বেশ কিছু প্যাকেট ভেজা রয়েছে এবং সেগুলোর মধ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রধান শিক্ষক জহিদুল ইসলাম বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্যাকেটগুলো ধুয়ে শুকানোর নির্দেশ দিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাইরে চলে যান। এর মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনোয়ার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং নিজেই একটি প্যাকেট কেটে দুধ খেয়ে দেখেন। তিনি দাবি করেন যে দুধে কোনো সমস্যা নেই এবং শিক্ষার্থীদের তা খাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন। তার এই আশ্বাসের পরেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের সম্মতিতে শিশুদের মধ্যে ওই দুধ পরিবেশন করা হয়।

দুধ পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হতে শুরু করে এবং তাদের মধ্যে বমি ভাব, মাথা ঘোরানো ও পেটব্যথার উপসর্গ দেখা দেয়। চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায় যে দুধের স্বাদ অদ্ভুত লাগলেও কোম্পানির প্রতিনিধি তাদের সেটি খাওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা গণমাধ্যমকে জানান যে দুধ খাওয়ার পরপরই তাদের সন্তানদের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে এবং বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকেও নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি থাকলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন সকল শিক্ষার্থী যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে রাতেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিমল দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে আক্রান্ত কোনো শিশুর অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল না। প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর সবাইকে নিরাপদে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোমলমতি শিশুদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টি কার্যক্রমে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।