ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আদালতের মর্যাদা: কর্তৃত্বে, না সংযমে Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ Logo ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৯৪ শতাংশ পদ ফাঁকা Logo সরিষার তেল বেশি উপকারী নাকি সয়াবিন তেল Logo বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা পঞ্চমবার পাবিপ্রবির নূর আলম Logo নৃত্যের ভাষায় শামীম আরা নিপার দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গল্প | তাঁHER কথা | পর্ব–০৬ Logo রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখার সুপারিশ Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে গোবিপ্রবিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo রাবিতে উপকূলীয় দুর্যোগের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ Logo জাবি উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস প্রতিনিধিদলের

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা পঞ্চমবার পাবিপ্রবির নূর আলম

‎বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর ২০২৬ সালের তালিকায় আবারও স্থান পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর এই তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
‎
‎অধ্যাপক ড. নূর আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র গবেষণাজীবনের প্রভাবভিত্তিক ‘ক্যারিয়ার লং’ বিভাগে ২০২৬ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গবেষক হিসেবে তিনি স্থান পেয়েছেন। এ বছর একক বছরের গবেষণা প্রভাবভিত্তিক ‘সিঙ্গেল ইয়ার’ তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। সংযুক্ত স্বীকৃতির নথিতে তথ্যের উৎস হিসেবে এলসেভিয়ার ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎বর্তমানে তিনি  মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেসে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতাকে যুক্ত করে ফলিত ও গণনামূলক গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন ।
‎
‎তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অরৈখিক তরঙ্গ ও সলিটন, ভগ্নাংশিক ডিফারেনশিয়াল সমীকরণ, গাণিতিক ও জ্যামিতিক মডেলিং এবং তরল প্রবাহ ও তাপ সঞ্চালনের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। পাশাপাশি মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জটিল ব্যবস্থার আচরণ বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস নিয়েও গবেষণা করছেন। এসব কাজে গণিতের তত্ত্ব ও গণনাপদ্ধতির মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সমস্যার সমাধান অনুসন্ধান করা হয়।
‎
‎তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, দেড় শতাধিক প্রকাশনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার পাশাপাশি তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা, আমন্ত্রিত বক্তা ও সেশন চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
‎
‎গবেষণায় অবদানের জন্য ২০২২ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পান অধ্যাপক ড. নূর আলম। তাঁর জীবনবৃত্তান্তে ২০২৬ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া থেকে ‘রিসার্চ ডুয়াম অ্যাকাডেমিশিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার তথ্যও রয়েছে।
‎
‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না থেকে ২০২০ সালে গণনামূলক গণিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
‎
‎২০১২ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যোগ দেন।
‎
‎এই অর্জন প্রসঙ্গে অধ্যাপক  ড. নূর আলম বলেন , “টানা পাঁচ বছর এই তালিকায় স্থান পাওয়া আমার জন্য আনন্দের। বিশেষ করে ক্যারিয়ার লং তালিকায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার কাছে অনেক অর্থবহ। এই পথচলায় আমার শিক্ষক, সহগবেষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অবদান রয়েছে। আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের ভালোবাসা এবং সহযোগিতা আমাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
‎
‎দেশে গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে গবেষণার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিয়মিত দিকনির্দেশনা, প্রয়োজনীয় গবেষণা সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দরকার। আমি চাই, আমার অভিজ্ঞতা তরুণ গবেষকদের কাজে আসুক। তাঁদের প্রশ্ন করতে, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে এবং ব্যর্থতার পরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই হবে এই স্বীকৃতির একটি অর্থপূর্ণ প্রতিদান।”
‎
‎
‎

জনপ্রিয়

আদালতের মর্যাদা: কর্তৃত্বে, না সংযমে

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা পঞ্চমবার পাবিপ্রবির নূর আলম

প্রকাশিত ০৯:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

‎বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর ২০২৬ সালের তালিকায় আবারও স্থান পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর এই তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
‎
‎অধ্যাপক ড. নূর আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র গবেষণাজীবনের প্রভাবভিত্তিক ‘ক্যারিয়ার লং’ বিভাগে ২০২৬ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গবেষক হিসেবে তিনি স্থান পেয়েছেন। এ বছর একক বছরের গবেষণা প্রভাবভিত্তিক ‘সিঙ্গেল ইয়ার’ তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। সংযুক্ত স্বীকৃতির নথিতে তথ্যের উৎস হিসেবে এলসেভিয়ার ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎বর্তমানে তিনি  মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেসে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতাকে যুক্ত করে ফলিত ও গণনামূলক গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন ।
‎
‎তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অরৈখিক তরঙ্গ ও সলিটন, ভগ্নাংশিক ডিফারেনশিয়াল সমীকরণ, গাণিতিক ও জ্যামিতিক মডেলিং এবং তরল প্রবাহ ও তাপ সঞ্চালনের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। পাশাপাশি মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জটিল ব্যবস্থার আচরণ বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস নিয়েও গবেষণা করছেন। এসব কাজে গণিতের তত্ত্ব ও গণনাপদ্ধতির মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সমস্যার সমাধান অনুসন্ধান করা হয়।
‎
‎তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, দেড় শতাধিক প্রকাশনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার পাশাপাশি তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা, আমন্ত্রিত বক্তা ও সেশন চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
‎
‎গবেষণায় অবদানের জন্য ২০২২ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পান অধ্যাপক ড. নূর আলম। তাঁর জীবনবৃত্তান্তে ২০২৬ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া থেকে ‘রিসার্চ ডুয়াম অ্যাকাডেমিশিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার তথ্যও রয়েছে।
‎
‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না থেকে ২০২০ সালে গণনামূলক গণিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
‎
‎২০১২ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যোগ দেন।
‎
‎এই অর্জন প্রসঙ্গে অধ্যাপক  ড. নূর আলম বলেন , “টানা পাঁচ বছর এই তালিকায় স্থান পাওয়া আমার জন্য আনন্দের। বিশেষ করে ক্যারিয়ার লং তালিকায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার কাছে অনেক অর্থবহ। এই পথচলায় আমার শিক্ষক, সহগবেষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অবদান রয়েছে। আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের ভালোবাসা এবং সহযোগিতা আমাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
‎
‎দেশে গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে গবেষণার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিয়মিত দিকনির্দেশনা, প্রয়োজনীয় গবেষণা সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দরকার। আমি চাই, আমার অভিজ্ঞতা তরুণ গবেষকদের কাজে আসুক। তাঁদের প্রশ্ন করতে, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে এবং ব্যর্থতার পরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই হবে এই স্বীকৃতির একটি অর্থপূর্ণ প্রতিদান।”
‎
‎
‎