জাতীয় ডেস্ক: দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে একটি মূল্যবান লেমুর চুরি যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল, তা উদ্ঘাটনে কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাফারি পার্কের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানান। তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, পার্ক থেকে লেমুর চুরির বিষয়টি বর্তমানে গভীর তদন্তের আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পার্কের ভেতরের নজরদারি ক্যামেরা এবং প্রহরীদের দায়িত্ব আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে পার্কের দীর্ঘমেয়াদি বন্দিদশায় থাকা বন্যপ্রাণীদের কল্যাণেও নতুন কিছু ভাবনার কথা জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে প্রায় নয় বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট বেষ্টনীতে আটকে থাকা এক জোড়া লেপার্ডের ভবিষ্যৎ জীবন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বন বিভাগের কাছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম পরিবেশে বসবাস করা এসব বন্যপ্রাণীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন বিভাগ ও পার্ক কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। বন্যপ্রাণী পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পার্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সঠিক তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপই পারে সাফারি পার্কগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল বজায় রাখতে।


































