ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নতুন করে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন? Logo এনসিপির আলোচনা সভা: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে Logo মাহফিলের নামে সরকারের বিরোধিতা করলে মেনে নেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেত অবরোধ Logo সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, পটিয়ায় তোলপাড় Logo এবার কি ঢাকায় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে Logo মক্কা চুক্তির বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছি Logo ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ Logo মন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার, রোববার ক্লাসে ফিরছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেত অবরোধ

চাকরি ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় সরকারি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে এসে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী সম্প্রতি একটি শনিবার বেলা এগারোটায় এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যথাসময় তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। হঠাৎ করে পরীক্ষা বাতিলের এমন আকস্মিক ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়েন দূরদূরান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা।

পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর ব্যস্ততম নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও যখন হলকক্ষগুলো থেকে কোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হচ্ছিল না, তখন তাদের সন্দেহ বাড়ে। এরপর পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই তারা একত্রিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন এবং এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমে তারা যে প্রশ্নগুলো দেখেছিলেন, তা মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিলে গেছে। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আগে থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা উপলক্ষে তারা আগের দিন থেকেই ঢাকায় এসে আত্মীয়স্বজনের বাসা কিংবা হোটেলে অবস্থান করছিলেন, যার পেছনে তাদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয় হয়েছে। নামমাত্র সময়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসায় তাদের এই অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় সারাদেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল এবং রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল।

পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চাকরিপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তারিখ ঘোষণা করে পরীক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জনপ্রিয়

নতুন করে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন?

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেত অবরোধ

প্রকাশিত ০১:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চাকরি ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় সরকারি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে এসে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী সম্প্রতি একটি শনিবার বেলা এগারোটায় এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যথাসময় তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। হঠাৎ করে পরীক্ষা বাতিলের এমন আকস্মিক ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়েন দূরদূরান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা।

পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর ব্যস্ততম নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও যখন হলকক্ষগুলো থেকে কোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হচ্ছিল না, তখন তাদের সন্দেহ বাড়ে। এরপর পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই তারা একত্রিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন এবং এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমে তারা যে প্রশ্নগুলো দেখেছিলেন, তা মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিলে গেছে। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আগে থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা উপলক্ষে তারা আগের দিন থেকেই ঢাকায় এসে আত্মীয়স্বজনের বাসা কিংবা হোটেলে অবস্থান করছিলেন, যার পেছনে তাদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয় হয়েছে। নামমাত্র সময়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসায় তাদের এই অর্থ অপচয় হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় সারাদেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল এবং রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল।

পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চাকরিপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তারিখ ঘোষণা করে পরীক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে।