জাতীয় ডেস্ক: বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও বান্দরবানের রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর আদর্শের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সব জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সম্প্রতি ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সেমিনার হলে সমতলের নৃগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জাতিগোষ্ঠী দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমत ব্যক্ত করেন। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জাতিগোষ্ঠী দল ও সমতলের নৃগোষ্ঠী সংগঠনের সভাপতি মৃগেন হাগিদক এবং এতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় পার্বত্য অঞ্চলসহ সমতলের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও বলেন যে, দেশের যে প্রান্তেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে জানান যে, প্রশাসন পরিচালনায় ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলের জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সার্বিক উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সরকারের এই ইতিবাচক মনোভাবের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী সমতলের নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং ভূ-সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। মন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের প্রতিটি বক্তব্য শোনেন এবং জানান যে সরকারের সঙ্গে দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে পেশ করা বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাচিং প্রু বলেন যে, তাদের তুলে ধরা নানা সমস্যা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে। আজকের এই মতবিনিময় সভা কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সরকারের ‘রেইনবো নেশন’ ঘোষণারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন যে, তাদের পক্ষ থেকে পেশ করা প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলো এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই ধরনের আন্তরিক উদ্যোগের ফলে দেশের সমতল ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে এবং সমাজে তাদের অধিকার আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো।



































