ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ সফরে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। সাম্প্রতিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কানাডিয়ান হাই কমিশন জানিয়েছে, চার দিনের এই সফরে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। ঢাকা ও কক্সবাজার সফরকালে তিনি কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এই সফরের মাধ্যমে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কানাডার সহযোগিতার দিকটি সামনে আসবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কানাডা বাংলাদেশকে ছয় শ ত্রিশ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর,বির মতো দেশীয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কানাডার দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ইতিমধ্যে চার শ কোটি কানাডিয়ান ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক উত্তরণের এই সময়ে কানাডার অংশীদারত্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু সহনশীলতা এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী সারাই কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। সংকট উত্তরণে কাজ করা বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন শুনবেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা এ পর্যন্ত ছয় শ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ সরকারের চলমান সুশাসন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশংসা করে কানাডা জানিয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সফল কূটনৈতিক সফর দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থাশীল সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জনপ্রিয়

অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে যা জানাল ডিবি

বাংলাদেশ সফরে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত ০১:০৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। সাম্প্রতিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কানাডিয়ান হাই কমিশন জানিয়েছে, চার দিনের এই সফরে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। ঢাকা ও কক্সবাজার সফরকালে তিনি কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এই সফরের মাধ্যমে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কানাডার সহযোগিতার দিকটি সামনে আসবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কানাডা বাংলাদেশকে ছয় শ ত্রিশ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর,বির মতো দেশীয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কানাডার দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ইতিমধ্যে চার শ কোটি কানাডিয়ান ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক উত্তরণের এই সময়ে কানাডার অংশীদারত্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু সহনশীলতা এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী সারাই কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। সংকট উত্তরণে কাজ করা বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন শুনবেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা এ পর্যন্ত ছয় শ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ সরকারের চলমান সুশাসন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশংসা করে কানাডা জানিয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সফল কূটনৈতিক সফর দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থাশীল সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।