পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন ছাত্রীকে র্যাগিং, মানসিকভাবে হেনস্তা ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী তাসনীম ফাতিনের মা রোকশানা পারভিন।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ছয় শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইতমিনান, আসফাকুল, অভি, লাবিব, সাইমা ও হিমু।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় এবং তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে বাড়ি ফিরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা সিনিয়রদের মাধ্যমে নিয়মিত র্যাগিং ও অপমানজনক আচরণের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের কটূক্তি করা, জোর করে বিভিন্ন ধরনের হাসি দিতে বলা, পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে পরিচয় দিতে বাধ্য করা এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সালাম না দিলে বকাঝকা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা তাঁদের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও নবীনদের বকাঝকা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো ও মেসেজ দিতেও নবীনদের চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ জানানোর কারণে কোনো শিক্ষার্থী যাতে প্রতিশোধমূলক আচরণ বা পুনরায় হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমার কাছে কিছুটা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তবে এটি সঠিক নাকি ভুল, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি আরও ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার মতো মনে হচ্ছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না।’



































