আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে অজ্ঞাতপরিচয় প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন ধরে গেছে। এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর এই নতুন ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইয়েমেমে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪-এ এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে সর্বশেষ হামলায় হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
জোট জানিয়েছে যে বিমানবন্দরের আশপাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি প্রতিহত করে। শনিবারের ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন এবং এছাড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বিমানবন্দরে একাধিক হামলার ঘটনা বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় এখানে নিয়মিত বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের যাতায়াত থাকে।
এই হামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাঁদের পরিচয় শনাক্ত এবং আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করায় এই ধরনের হামলা প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সৌদি জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে এবং হুতিরাও বিভিন্ন সময়ে এমন হামলার দাবি করেছে। তবে রোববারের সর্বশেষ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে সৌদি আরব সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়ছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরটি হামলার পর বন্ধ থাকায় যাত্রীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে এবং ফ্লাইট বাতিলের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলা শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্যও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।






































