ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

‘বাল্যবিয়েতে অনেক মেয়ে স্বাভাবিক জীবন হারায়’

জাতীয় ডেস্ক: বাল্যবিয়ে রোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন আহমদ। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি জানান, এই সামাজিক অভিশাপের কারণে বহু কিশোরী তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অধিকার হারিয়ে ফেলছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য কখনোই ভুক্তভোগী মেয়েটি নিজে দায়ী থাকে না। অথচ সমাজের এই কুপ্রথার শিকার হয়ে অসংখ্য কমবয়সী মেয়ের জীবন চিরতরে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

তিনি তাঁর আলোচনায় বাল্যবিয়ে সংশ্লিষ্ট নানা ভয়াবহ শারীরিক ও সামাজিক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেছেন। সাধারণত ১২ বা ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাদের কোলজুড়ে সন্তান আসে। এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি শিশুর পেটে আরেকটি শিশু আসার অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কম বয়সে গর্ভধারণের ফলে মা ও অনাগত শিশু উভয়েই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিয়ের পর কিশোরী বধূদের ওপর শ্বশুরবাড়ির বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে তাদের চলমান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এই বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকেও পিছিয়ে দেয় বলে মনে করেন এই মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ।

এমতাবস্থায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে বাল্যবিয়ে নামক এই সামাজিক ব্যাধি শক্ত হাতে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শৈশবে বিয়ে রোধ করা সম্ভব হলে দেশের নারীরা নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পাবে। তাই কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয়

একটা ফল, এত পরিচয় কেন

‘বাল্যবিয়েতে অনেক মেয়ে স্বাভাবিক জীবন হারায়’

প্রকাশিত ০৯:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: বাল্যবিয়ে রোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন আহমদ। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি জানান, এই সামাজিক অভিশাপের কারণে বহু কিশোরী তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অধিকার হারিয়ে ফেলছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য কখনোই ভুক্তভোগী মেয়েটি নিজে দায়ী থাকে না। অথচ সমাজের এই কুপ্রথার শিকার হয়ে অসংখ্য কমবয়সী মেয়ের জীবন চিরতরে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

তিনি তাঁর আলোচনায় বাল্যবিয়ে সংশ্লিষ্ট নানা ভয়াবহ শারীরিক ও সামাজিক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেছেন। সাধারণত ১২ বা ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাদের কোলজুড়ে সন্তান আসে। এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি শিশুর পেটে আরেকটি শিশু আসার অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কম বয়সে গর্ভধারণের ফলে মা ও অনাগত শিশু উভয়েই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিয়ের পর কিশোরী বধূদের ওপর শ্বশুরবাড়ির বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে তাদের চলমান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এই বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকেও পিছিয়ে দেয় বলে মনে করেন এই মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ।

এমতাবস্থায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে বাল্যবিয়ে নামক এই সামাজিক ব্যাধি শক্ত হাতে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শৈশবে বিয়ে রোধ করা সম্ভব হলে দেশের নারীরা নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পাবে। তাই কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।