ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন, কারা পাবেন না

জাতীয় ডেস্ক: দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নগদ সহায়তা বিতরণের জন্য সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার ও বহির্ভুক্তির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ, ভূমিহীন পরিবার এবং নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো এই সুবিধার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে যাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনগ্রস্তরা সহায়তা পায়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই করতে দেশজুড়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের প্রশিক্ষিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করছেন।

তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে তা না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো অনিয়ম বা অর্থ দাবির ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। কার্ডের জন্য নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থের প্রয়োজন নেই বলে পরিষ্কার জানানো হয়েছে।

তবে নীতিমালা অনুযায়ী আটটি সুনির্দিষ্ট শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে। সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত পেনশনভোগী বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ, মোটরযান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকা পরিবারও বাদ পড়বে। করদাতা পরিবার এবং নির্ধারিত সীমার বেশি জমি বা বাণিজ্যিক সম্পত্তি থাকলে তারা এই সুবিধা পাবেন না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দ্বৈততা এড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে জিটুপি বা গভর্নমেন্ট টু পাবলিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং দুর্নীতি রোধে এই ডিজিটাল পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এমআইএস ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে খুব সহজেই উপকারভোগী নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

একটা ফল, এত পরিচয় কেন

ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন, কারা পাবেন না

প্রকাশিত ০৯:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নগদ সহায়তা বিতরণের জন্য সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার ও বহির্ভুক্তির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ, ভূমিহীন পরিবার এবং নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো এই সুবিধার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে যাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনগ্রস্তরা সহায়তা পায়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই করতে দেশজুড়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের প্রশিক্ষিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করছেন।

তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে তা না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো অনিয়ম বা অর্থ দাবির ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। কার্ডের জন্য নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থের প্রয়োজন নেই বলে পরিষ্কার জানানো হয়েছে।

তবে নীতিমালা অনুযায়ী আটটি সুনির্দিষ্ট শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে। সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত পেনশনভোগী বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ, মোটরযান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকা পরিবারও বাদ পড়বে। করদাতা পরিবার এবং নির্ধারিত সীমার বেশি জমি বা বাণিজ্যিক সম্পত্তি থাকলে তারা এই সুবিধা পাবেন না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দ্বৈততা এড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে জিটুপি বা গভর্নমেন্ট টু পাবলিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং দুর্নীতি রোধে এই ডিজিটাল পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এমআইএস ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে খুব সহজেই উপকারভোগী নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।