কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ বিদায় নিয়েছে এবং এর ফলে প্রায় চার মাস পর চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের অবসান ঘটেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় জুন টেকনাফ উপকূল দিয়ে প্রবেশ করার পর দীর্ঘ চার মাস সক্রিয় থেকে সম্প্রতি একই রুট দিয়ে এটি বিদায় নিয়েছে। মৌসুমি বায়ু চলে যাওয়ার কারণে দেশের আকাশ সাধারণত রোদোজ্জ্বল ও পরিষ্কার হয়ে আসছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প ও আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি দূর হয়ে আবহাওয়ায় এক নতুন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও দেশের বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবারের দিকে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী বুধবার থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, মৌসুমি বায়ু চলে গেলেও বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হবে না এবং বিচ্ছিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের বায়ুর সংমিশ্রণের ফলে আগামী বুধবার থেকে উপকূল অঞ্চলের পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কিংবা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায়ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই আবহাওয়াবিদ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এর ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা হ্রাসের কারণে গরমের অনুভূতি আরও কমে যায়। তাছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য বাড়তে থাকায় চলতি মাসের শেষের দিকে ধীরে ধীরে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করবে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ বা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির স্বাভাবিক প্রবণতা বজায় থাকে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
































