ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব বাতিল কিংবা স্থগিত করা শুরু করেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নতুন ভিসা নীতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে যুক্তরাজ্যে পড়াশুনার জন্য ভিসা আবেদনের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রত্যাহার বা বাতিল হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রত্যাহারের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পন্সর করার নিয়মগুলো আরও কঠোর করেছে। পূর্বে নিয়ম ছিল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হলে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমতি হারাত। বর্তমানে সেই সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের লাইসেন্স রক্ষার্থে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে ভর্তির অফার বাতিল করে দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই স্টাডি ভিসাকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই কারণে স্টাডি ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দ্বিগুণ হয়েছে। উচ্চশিক্ষা খাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে। এছাড়া ‘এনরোলি’ নামক ভিসা প্রসেসিং কোম্পানির উপাত্ত থেকে জানা যায় যে, প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নতুন ৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

জনপ্রিয়

চকবাজারে মার্কেটে আগুন

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত ০৬:০৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব বাতিল কিংবা স্থগিত করা শুরু করেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নতুন ভিসা নীতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে যুক্তরাজ্যে পড়াশুনার জন্য ভিসা আবেদনের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রত্যাহার বা বাতিল হয়েছে। এর আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রত্যাহারের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পন্সর করার নিয়মগুলো আরও কঠোর করেছে। পূর্বে নিয়ম ছিল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হলে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমতি হারাত। বর্তমানে সেই সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের লাইসেন্স রক্ষার্থে আগাম পদক্ষেপ হিসেবে ভর্তির অফার বাতিল করে দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই স্টাডি ভিসাকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই কারণে স্টাডি ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দ্বিগুণ হয়েছে। উচ্চশিক্ষা খাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে। এছাড়া ‘এনরোলি’ নামক ভিসা প্রসেসিং কোম্পানির উপাত্ত থেকে জানা যায় যে, প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নতুন ৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।