ক্যাম্পাস ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে সব কাজে সর্বাত্মক অসহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা। সম্প্রতি নতুন উপাচার্য প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুয়েট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন একটি যৌথ সভা করে। সভা শেষে আয়Fোজিত সংবাদ সম্মেলনে তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পূর্বঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত দায়িত্বসহ পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি এই অসহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে গত আট অক্টোবর চুয়েট শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা থেকে আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তার পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছিল। মূলত গত পঁচিশ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা এই দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন ও কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন যে চুয়েট পরিবার নতুন উপাচার্যকে গ্রহণ করছে না। আগের উপাচার্য অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের ১৭ দিন পর নির্ধারিত সময়ের আগেই ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সকাল সাড়ে নয়টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তারা উপাচার্যকে দুপুর বারোটার মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার সময়সীমা বেঁধে দিলেও তিনি তা না মানায় বেলা সাড়ে বারোটায় ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে এবং উপাচার্য কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এদিকে ক্যাম্পাসে চলমান এই অস্থিরতার মধ্যেই চট্টগ্রাম শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। মদুনাঘাট এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা, কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে বাসের গতি রোধ এবং বিকেলে বহদ্দারহাট এলাকায় আবারও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এই ঘটনার পর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।






































