ক্যাম্পাস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম জানিয়েছেন যে বর্তমান সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। অতীতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব কেবল সশস্ত্র বাহিনীর উপর ন্যস্ত থাকলেও আধুনিক প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সামনে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি দেশের সুরক্ষার নতুন রূপরেখা ও বহুমাত্রিক দিকগুলো তুলে ধরেন। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার আহ্বান জানান এই উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা মূলত তিনটি প্রধান ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এর প্রথম ভিত্তিটি হলো সশস্ত্র বাহিনী, তাদের প্রয়োজনীয় সম্পদ, সদস্য, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি। দ্বিতীয় ভিত্তি হিসেবে তিনি জনসাধারণের ইচ্ছাশক্তি, যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবেলার সহজাত সক্ষমতা এবং সুদৃঢ় সামাজিক সংহতির কথা উল্লেখ করেন। আর তৃতীয় ও শেষ ভিত্তি হিসেবে অর্থনীতি, কূটনীতি, তথ্য, সাইবার ক্ষেত্র, রাজনীতি, ভৌগলিক অবস্থান এবং জাতীয় চেতনার কথা বলেছেন তিনি। বাংলাদেশের মতো একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রচলিত সামরিক সমতা, কৌশলগত জোট এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতার মতো কৌশলগুলোর কথাও তিনি জানান।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং তরুণদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ পর্যালোচনা করেন। তিনি জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সবকিছুর ঊর্ধ্বে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই বক্তৃতার পূর্বে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসআইসিআইপি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। শিল্প খাতে দক্ষতা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসআইসিআইপি প্রকল্পের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেশাজীবী ও স্নাতককে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রযুক্তি গ্রহণ ও উদ্ভাবনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
































