ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সচিব হলেন ৩ নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত Logo আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের শর্ত ধাপে ধাপে পূরণ করতে চায় সরকার Logo রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল: ‘বিকল্প বিমানবন্দরে’ খরচের ধাক্কায় প্রবাসীরা Logo কবি নজরুল কলেজে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ’ অনুষ্ঠিত Logo জাবিতে ‘ধ্বনি’র প্রতিষ্ঠার ৩ দশক উপলক্ষে ‘ত্রিংশ’ অনুষ্ঠিত Logo পাবিপ্রবির লেকে ১৪টি পাতি সরালি হাঁস অবমুক্ত করল পাখিপ্রেমীরা Logo নভেম্বরে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর তোড়জোড় Logo ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে নোবিপ্রবি Logo পাবিপ্রবিতে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করলেন ছাত্রদল নেতা Logo নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগ শিক্ষকদের অসহযোগিতা

নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগ শিক্ষকদের অসহযোগিতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর আবাসিক কক্ষ থেকে হাতে লেখা একাধিক চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু বার্তা পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং চিঠিতে উল্লিখিত বিভাগের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন সহপাঠীরা। পরে তাঁর কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সহপাঠীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিভাগের শিক্ষকদের অসহযোগিতার বিষয়টি সামনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিকাল ৩টা ৮ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা যায় মোহাইমিনুল ইসলামকে। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি।

মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁর স্থায়ী বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরা বাড়ি এলাকায়।

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তাঁর সহপাঠী মিম বলেন, “সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানতে পারি মুহাইমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁর কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাই। তারপর থেকে আমরা সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

মুহাইমিনের একাডেমিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চতুর্থ বর্ষের একটি কোর্সে তাঁর ফেল এসেছিল। এ কারণে চলতি বছর ওই কোর্সের রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে মাস্টার্সের ক্লাসও করছিলেন। কয়েক দিন আগে তাঁকে জানানো হয়, চতুর্থ বর্ষের বিষয়ের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। বিষয়টি তাঁকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”

সহপাঠীদের ভাষ্য, কক্ষে পাওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, শিক্ষক এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা উল্লেখ রয়েছে।যেখানে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে বিভাগকের শিক্ষকদের অভিযুক্ত করা হয়, বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম বলেন “আমি তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। আমরা তার সন্ধানের বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলে উদ্ধারের চেষ্টা করতেছি।”

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। তদন্ত কমিটির প্রধান গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদ ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবির, সদস্য হিসেবে আছেন ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হুসাইন মো. সায়েম, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. আল আমিন খান, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানা। ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন গঠিত জমা দেয়া বলে জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই সাভার থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশকে তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিঠিতে বিভাগের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

মোহাইমিনুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিম (০১৭১৪০১২৩১৫) অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী (০১৭১২৬৭৪৫৫৭)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয়

সচিব হলেন ৩ নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত

নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগ শিক্ষকদের অসহযোগিতা

প্রকাশিত ১১:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর আবাসিক কক্ষ থেকে হাতে লেখা একাধিক চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু বার্তা পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং চিঠিতে উল্লিখিত বিভাগের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন সহপাঠীরা। পরে তাঁর কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সহপাঠীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিভাগের শিক্ষকদের অসহযোগিতার বিষয়টি সামনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিকাল ৩টা ৮ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা যায় মোহাইমিনুল ইসলামকে। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি।

মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁর স্থায়ী বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরা বাড়ি এলাকায়।

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তাঁর সহপাঠী মিম বলেন, “সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানতে পারি মুহাইমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁর কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাই। তারপর থেকে আমরা সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

মুহাইমিনের একাডেমিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চতুর্থ বর্ষের একটি কোর্সে তাঁর ফেল এসেছিল। এ কারণে চলতি বছর ওই কোর্সের রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে মাস্টার্সের ক্লাসও করছিলেন। কয়েক দিন আগে তাঁকে জানানো হয়, চতুর্থ বর্ষের বিষয়ের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। বিষয়টি তাঁকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”

সহপাঠীদের ভাষ্য, কক্ষে পাওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, শিক্ষক এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা উল্লেখ রয়েছে।যেখানে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে বিভাগকের শিক্ষকদের অভিযুক্ত করা হয়, বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম বলেন “আমি তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। আমরা তার সন্ধানের বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলে উদ্ধারের চেষ্টা করতেছি।”

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। তদন্ত কমিটির প্রধান গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদ ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবির, সদস্য হিসেবে আছেন ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হুসাইন মো. সায়েম, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. আল আমিন খান, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানা। ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন গঠিত জমা দেয়া বলে জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই সাভার থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশকে তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিঠিতে বিভাগের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

মোহাইমিনুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল হালিম (০১৭১৪০১২৩১৫) অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী (০১৭১২৬৭৪৫৫৭)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।