জাতীয় ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই অপ্রীতিকর ঘটনার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসা ড. ইউনূসের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তেড়ে গিয়ে তীব্র স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক কথা বলেন এবং উচ্চস্বরে নানা স্লোগান উচ্চারণ করেন। সে সময় তাকে উদ্দেশ করে নানা ধরনের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা সহযোগীদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় তিনি সেখান থেকে নিরাপদে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এছাড়া তারা বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সেখানে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত প্রবাসীদের কেউ কেউ এই ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান যে এই হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিদেশের মাটিতে দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে এমন আচরণ কূটনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ অনুভূত হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এখন আলোচনা চলছে।





































