জাতীয় ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আক্রমণাত্মক ও অসৌজন্যমূলক প্রশ্ন করছেন। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতেও ড. ইউনূসের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সফরসঙ্গী লামিয়া মোর্শেদ। তিনি জানান, ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব ড. ইউনূসের ওপর পড়েনি।
ঘটনার পর ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিমানবন্দর এলাকায় আক্রমণাত্মক আচরণকারী ওই ব্যক্তিরা নিজেদের চরম মানসিকতা ও নিম্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বনন্দিত এই ব্যক্তিত্বের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারও। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনে রয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশের বাইরে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা দেশ ছেড়ে গেলেও নানা ধরনের সংকট সৃষ্টির পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।




































