শরতের কাশফুল আর দূর দিগন্তের নীলের মিশেলে ৫৫তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘নবীনবরণ নাট্যোৎসব ২০২৬’-এর আয়োজন করছে সাংস্কৃতিক সংগঠন জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার টিএসসি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে এ আয়োজনের অংশ হিসেবে নবীনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পরে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার প্রযোজিত নাটক ‘বিধিবাম’ মঞ্চস্থ হয়েছে।
আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘শরৎ’। শরতের প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক আবহকে ঘিরে সাজানো এ উৎসবের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।
নাটক ‘বিধিবাম’ রচনা করেছেন শহীদুল জহির। এর নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন তপু চন্দ্র দাস। এবারের নাট্যদলে মোট ২৬ জন কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন ৫৫তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থী এবং বাকি ১১ জন অন্যান্য শিক্ষার্থী।
আয়োজন সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার টিএসসির সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস রিয়া বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়ে থাকে। এখানে নবীন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিভাগ ও হল থেকে নানা আয়োজনে সংবর্ধিত হয়। তবে সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে নবীনবরণের আনন্দ ও অনুভূতি ভিন্ন মাত্রা পায়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে গ্রামবাংলায় যাত্রাপালার আয়োজন হতো, যা এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এবারের অনুষ্ঠানে যাত্রাপালার কিছু দৃশ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপু চন্দ্র দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা এসেছে। তাদের বরণ করে নিতেই প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এ আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নবীনদের শুধু সংবর্ধনা দেওয়াই নয়, নাটকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াও এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরাসরি মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘প্রত্যেকটি নাটকের একটি বক্তব্য থাকে, মেসেজ থাকে এবং সেই বক্তব্য, সেই মেসেজগুলো আমাদের সমাজ, আমাদের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতি, সর্বোপরি আমাদের জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি নাটকের একটি টেক হোম মেসেজ থাকে। আমরা আশা করি, আমরা স্বপ্ন দেখি, আমাদের এই মেসেজগুলো, আমাদের বক্তব্যগুলো আমাদের দর্শকরা গ্রহণ করবেন এবং তার একটা প্রতিফলন আমাদের সমাজে থাকবে।’


































