জাতীয় ডেস্ক: অভিমাসন খাতে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা বহু মানুষের পেশাগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) সঙ্গে কাজ করে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও বিভিন্ন পেশাগত কর্মকাণ্ডে কাজে লেগেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সাবেক গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানে বক্তারা রামরুর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে অর্জিত স্মৃতিচারণা করেন এবং নিজেদের কর্মজীবনের সাফল্যের পেছনে এই অভিজ্ঞতার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ বেশ সীমিত ছিল। তবে রামরুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর নারী অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তাদের অভিজ্ঞতা শোনা, তথ্য সংগ্রহ এবং উপাত্ত বিশ্লেষণের মতো কাজগুলো তারা হাতে-কলমে শিখতে পেরেছিলেন। নিজেদের উদ্যোগে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করার মতো বিষয়গুলো বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের সাহায্য করেছে।
এই গবেষণার কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই ধরনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, গবেষণা পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ক্ষেত্রে বড় সহায়তা জুগিয়েছে। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. মো. মাহবুবুর রহমান, রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাকফি ফারাহ, বিশেষজ্ঞ তানজিয়া আনজুম, শাহজাদা এম. আকরাম এবং তামিম বিল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান এই অধিবেশনটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।
রামরুর তিন দশক পূর্তির এই সম্মিলনে অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি ও মানবপাচারসংক্রান্ত গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অভিবাসীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের এই কাজের সুবাদে তরুণ গবেষকরা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানই অর্জন করেননি, বরং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল পেশাজীবী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। অভিবাসন খাতের এই গবেষণা কার্যক্রম দেশের সামগ্রিক পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।





































