ক্যাম্পাস ডেস্ক: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নাটক ‘রক্তকরবী’ মঞ্চে নিয়ে আসছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরাম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এটি এই নাট্য প্রযোজনাটির প্রথম প্রদর্শনী হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের নাট্যপ্রেম ও সৃজনশীলতা বড় দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নাটকের টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুইশত টাকা।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন শ্রেয়শ্রী সরকার। নির্দেশক জানান, রক্তকরবী তার কাছে কেবল কোনো সাধারণ নাটক নয় বরং এটি ক্ষমতা, মানুষ এবং মুক্তির শাশ্বত অনুসন্ধানের রূপ। যুগের পরিবর্তনে শোষণের ধরন ও ক্ষমতার রূপ বদলালেও মানুষের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বর্তমান সময়ের নিরিখেও এই নাটক নানা গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে।
ঐতিহাসিক কোনো নিদর্শন হিসেবে নয় বরং সমসাময়িক বাস্তবতার আলোকে নাটকটি পুনরায় পাঠের প্রয়াস চালানো হয়েছে। ভোগবাদ, উন্নয়নের নানা বয়ান, অদৃশ্য ক্ষমতার বলয় এবং মানুষের বিচ্ছিন্নতার পটভূমিতে যক্ষপুরীকে নতুন আঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্দেশক আরও উল্লেখ করেন যে, যক্ষপুরীকে কোনো দূরবর্তী কল্পরাজ্য হিসেবে না ভেবে চারপাশের সমাজের রূপক হিসেবে ধরা হয়েছে।
এই ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে কোরাস, সংগীত, শরীর, আলো এবং প্রতীকী দৃশ্যবিন্যাসসহ আধুনিক মঞ্চভাষার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। বর্তমান সময়ে মানুষ যখন কেবল উৎপাদনের একক হয়ে উঠেছে, তখন রক্তকরবী নাটকটি মানুষকে তার স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং প্রতিবাদের শক্তি পুনরায় মনে করিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথকে কেবল আধুনিক করার বদলে তার চিন্তার সঙ্গে বর্তমান সময়ের একটি সৃজনশীল সংলাপ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।





































