ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দুধে ভেজাল মেশালে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: দুধে ভেজাল মেশানোকে অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিশুদের প্রধান খাদ্য দুধে ভেজাল দিয়ে তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাবনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনা জেলার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে সম্প্রতি এই অঞ্চলেই দুধের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ভেজাল মেশানোর খবর পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় দুগ্ধশিল্পের সুনামও দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ভেজাল রোধের কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারে বিক্রি বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত দুধ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার একার নয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। খামারি, ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের সব স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সবার সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল দুধে ভেজাল মেশানোর মতো অপরাধমূলক প্রবণতা চিরতরে দমন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামসহ এলাকার বিভিন্ন দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে ভেজাল প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

পিএসসির সাবেক গাড়িচালকের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

দুধে ভেজাল মেশালে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত ১২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দুধে ভেজাল মেশানোকে অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিশুদের প্রধান খাদ্য দুধে ভেজাল দিয়ে তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাবনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনা জেলার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে সম্প্রতি এই অঞ্চলেই দুধের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ভেজাল মেশানোর খবর পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় দুগ্ধশিল্পের সুনামও দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ভেজাল রোধের কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারে বিক্রি বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত দুধ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেবল নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার একার নয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। খামারি, ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের সব স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সবার সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল দুধে ভেজাল মেশানোর মতো অপরাধমূলক প্রবণতা চিরতরে দমন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামসহ এলাকার বিভিন্ন দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে ভেজাল প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।