ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

চাহিদামত টাকা পেলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা, জমাও পড়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় এসে গ্রাহকরা তাদের চাহিদামতো অর্থ তুলতে পেরেছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির মতিঝিল, দিলকুশা, বাংলা মোটর, যাত্রাবাড়ী ও ফকিরাপুল এলাকার শাখাগুলোতে আমানতকারীদের তেমন কোনো দীর্ঘ সারি বা অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। ঋণ অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য পূর্বেই আবেদন গ্রহণ করেছিল। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে শুধু সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম কার্যদিবসে দেশজুড়ে মোট ১৮৮ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা থাকলেও গ্রাহকরা তার তুলনায় অনেক কম অর্থ উত্তোলন করেছেন।

তরল সংকট কাটানোর উদ্যোগ হিসেবে ব্যাংকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ধার নেয়। আগের ঘোষণা অনুযায়ী আবেদনকারী গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু হলে দিলকুশা শাখায় বেশ কয়েকজন পুরনো আমানতকারী আসেন। সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা দুই লাখ টাকার আবেদন করে তা সফলভাবে তুলতে সক্ষম হন। তবে অনেক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হিসাব দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকায় তাদের প্রতিনিধিরাও পরিস্থিতি যাচাই করতে শাখায় আসেন। দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক জানান যে তাদের শাখায় গ্রাহকদের চাহিদার বিপরীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি এই শাখায় নতুন করে ৫০ লাখ টাকা জমা হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রাহকদের অর্থ প্রদান কার্যক্রম সশরীরে তদারকি করতে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর যাত্রাবাড়ী শাখা ঘুরে দেখেন এবং সেখানকার ব্যবস্থাপক জানান যে তাদের শাখায় উত্তোলনের তুলনায় নতুন আমানত জমার পরিমাণ বেশি ছিল। অন্যদিকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবিন গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রথম দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা তুলেছেন আমানতকারীরা। অতীতের নানা অনিয়মের ধাক্কা সামলে ব্যাংকে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দুর্গোৎসবের ছুটির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি মেটাতে আগামী শনিবারও ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখা হবে। ছুটির দিনেও আমানতকারীরা নিয়মিত লেনদেন এবং অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। প্রথম দিনের কার্যক্রমে খুব বেশি ভিড় না থাকলেও আগামী সপ্তাহে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। গ্রাহকদের মনে দীর্ঘদিনের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে ব্যাংকিং কার্যক্রমে আস্থা ফেরাতে কাজ করছে কতৃপক্ষ। চাহিদামতো অর্থ ফেরত পাওয়ার এই ইতিবাচক ধারার ফলে ব্যাংকটির সার্বিক লেনদেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

অর্থপাচার বন্ধ হওয়াটা নির্ভর করছে ‘সহায়তাকারীদের’ উপর: উপদেষ্টা তিতুমীর

চাহিদামত টাকা পেলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা, জমাও পড়েছে

প্রকাশিত ০৮:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় এসে গ্রাহকরা তাদের চাহিদামতো অর্থ তুলতে পেরেছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির মতিঝিল, দিলকুশা, বাংলা মোটর, যাত্রাবাড়ী ও ফকিরাপুল এলাকার শাখাগুলোতে আমানতকারীদের তেমন কোনো দীর্ঘ সারি বা অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। ঋণ অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য পূর্বেই আবেদন গ্রহণ করেছিল। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে শুধু সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম কার্যদিবসে দেশজুড়ে মোট ১৮৮ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা থাকলেও গ্রাহকরা তার তুলনায় অনেক কম অর্থ উত্তোলন করেছেন।

তরল সংকট কাটানোর উদ্যোগ হিসেবে ব্যাংকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ধার নেয়। আগের ঘোষণা অনুযায়ী আবেদনকারী গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু হলে দিলকুশা শাখায় বেশ কয়েকজন পুরনো আমানতকারী আসেন। সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা দুই লাখ টাকার আবেদন করে তা সফলভাবে তুলতে সক্ষম হন। তবে অনেক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হিসাব দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকায় তাদের প্রতিনিধিরাও পরিস্থিতি যাচাই করতে শাখায় আসেন। দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক জানান যে তাদের শাখায় গ্রাহকদের চাহিদার বিপরীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি এই শাখায় নতুন করে ৫০ লাখ টাকা জমা হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রাহকদের অর্থ প্রদান কার্যক্রম সশরীরে তদারকি করতে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর যাত্রাবাড়ী শাখা ঘুরে দেখেন এবং সেখানকার ব্যবস্থাপক জানান যে তাদের শাখায় উত্তোলনের তুলনায় নতুন আমানত জমার পরিমাণ বেশি ছিল। অন্যদিকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবিন গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রথম দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা তুলেছেন আমানতকারীরা। অতীতের নানা অনিয়মের ধাক্কা সামলে ব্যাংকে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দুর্গোৎসবের ছুটির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি মেটাতে আগামী শনিবারও ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখা হবে। ছুটির দিনেও আমানতকারীরা নিয়মিত লেনদেন এবং অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। প্রথম দিনের কার্যক্রমে খুব বেশি ভিড় না থাকলেও আগামী সপ্তাহে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। গ্রাহকদের মনে দীর্ঘদিনের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে ব্যাংকিং কার্যক্রমে আস্থা ফেরাতে কাজ করছে কতৃপক্ষ। চাহিদামতো অর্থ ফেরত পাওয়ার এই ইতিবাচক ধারার ফলে ব্যাংকটির সার্বিক লেনদেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।