জাতীয় ডেস্ক: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে ছয় হাজার ৬৫৮৩টি পদ খালি রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ রেখে দ্রুত সরাসরি প্রক্রিয়ায় শূন্য পদগুলো পূরণের জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে জনবল ঘাটতির পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। খাদ্য উৎপাদনে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতি স্তরে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিদ্যমান আইন ও বিধির নানান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানানো হয়। শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও বৈঠকে মতৈক্য হয়।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানান যে খাদ্যে ভেজাল রোধে সরকার অত্যন্ত সচেতন রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিটি কার্যালয়ে মিনি ল্যাব স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারসহ গাড়ি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আবাদি জমি কমে যাওয়ার বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয় এবং কৃষিজমি সুরক্ষায় নজরদারির কথা বলা হয়। প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে ভুলত্রুটি এড়ানোর জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু। জনগণের দগোড়ায় নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
































