প্রবাস ডেস্ক: ভিসা আবেদনে জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া আবেদনের ৭০ শতাংশ এবং ভারত থেকে জমা পড়া আবেদনের ৩৯ শতাংশ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই প্রত্যাখ্যানের হার বিগত স্বাভাবিক হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সব দেশ মিলিয়ে পূর্ণ-ফি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের ৬ হাজার ২৭৩টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অথচ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সারা বছর মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৫০৩টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন বাতিলের বর্তমান হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।
অভিবাসন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই সংকটের পেছনে বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অসাধু শিক্ষা এজেন্টের জালিয়াতি জড়িত রয়েছে। এসব এজেন্টের অনেকে নিজেরা কাজ না করে সাব-এজেন্টের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে ফাইল জমা দেওয়ানোর ফলে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাস্টার্স ডিগ্রিতে অধ্যয়নের আবেদনের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি এবং জালিয়াতি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এইমস গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী অরুণিমা ধিংড়া জানান, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ দেখাতে ভুয়া নথিপত্র ব্যবহারের প্রবণতা হঠাৎ অনেক বেড়েছে। এজেন্টরা একই আর্থিক নথি বারবার ব্যবহার করে কেবল নাম পরিবর্তন করায় বাস্তবে ওই অর্থের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এর ফলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হওয়ায় বহু প্রকৃত শিক্ষার্থীও কোনো দোষ ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষার্থীদের উচ্চহারে ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনা নিউজিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারের সুনামের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যারা প্রকৃত উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক, তাদের কাছে এমন পরিস্থিতি ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে। তাই জালিয়াতি রোধের পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা।






































