জাতীয় ডেস্ক: বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা শুরু হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী এবার দেবী ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করেছেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে প্রস্থান করবেন। মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। পূজার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া উৎসব উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দেবীর আগমন ও গমনের বাহনের সঙ্গে প্রকৃতি ও জনজীবনের প্রতীকী ব্যাখ্যা জড়িত রয়েছে।
উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩৩ হাজার ৯৭টি মণ্ডপে আনসার ও ভিভিডিপির দুই লাখের বেশি সদস্য এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের সাড়ে তিন হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো গুজব বা অপপ্রচার রোধে সাইবার নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করা হচ্ছে। জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মোবাইল অ্যাপ ও মনিটরিং দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের এই বহুমুখী পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করছেন।




































