ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০৩৫ সালের লক্ষ্য, কমাতে হবে শিশুদের ঝুঁকি

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: সিসাদূষণ রোধ করার মাধ্যমে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার উপস্থিতি ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার বিশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিবেশ পর্যবেক্ষণ জোরদার করা এবং নিরাপদ শিল্পচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পিওর আর্থ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত জাতীয় কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষাগারের মান উন্নয়ন এবং দূষিত স্থানসমূহ দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।

সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান যে সিসামুক্ত দেশ গড়তে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে। পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালি দাস উল্লেখ করেন যে ২০১৯ সালে সিসার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি জানান যে কোনো ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই সিসা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য বিশেষ কার্যপদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিসাদূষণ শনাক্ত ও তা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুটি বহনযোগ্য এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স অ্যানালাইজার প্রদান করেছে পিওর আর্থ বাংলাদেশ। পাশাপাশি খুলনার একটি স্কুলে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে রক্তে সিসার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সফলতাও সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিসাদূষণের মতো গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। এই সেমিনারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যালায়েন্স ফর আ লেড-ফ্রি বাংলাদেশ’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের শতাধিক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

জয়রথে মোহামেডান, ছুটছে কিংসও

সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০৩৫ সালের লক্ষ্য, কমাতে হবে শিশুদের ঝুঁকি

প্রকাশিত ১১:৫২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: সিসাদূষণ রোধ করার মাধ্যমে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার উপস্থিতি ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার বিশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিবেশ পর্যবেক্ষণ জোরদার করা এবং নিরাপদ শিল্পচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পিওর আর্থ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত জাতীয় কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষাগারের মান উন্নয়ন এবং দূষিত স্থানসমূহ দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।

সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান যে সিসামুক্ত দেশ গড়তে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে। পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালি দাস উল্লেখ করেন যে ২০১৯ সালে সিসার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি জানান যে কোনো ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই সিসা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য বিশেষ কার্যপদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিসাদূষণ শনাক্ত ও তা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুটি বহনযোগ্য এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স অ্যানালাইজার প্রদান করেছে পিওর আর্থ বাংলাদেশ। পাশাপাশি খুলনার একটি স্কুলে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে রক্তে সিসার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সফলতাও সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিসাদূষণের মতো গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। এই সেমিনারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যালায়েন্স ফর আ লেড-ফ্রি বাংলাদেশ’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের শতাধিক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।