অপরাধ ডেস্ক: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের আটককৃত দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আটক দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতি এবং নানা জটিলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কতৃপক্ষ।
ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান রাতের ডিউটির অংশ হিসেবে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন। উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশা বাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের ধাওয়া করার সময় তারা ভুলবশত ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেন। এই সুযোগে বিএসএফ তাদের আটক করে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে বিজিবির মধ্যস্থতায় তাদের ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান রয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশ এবং বিজিবি যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বন্দী পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান যে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে অত্যন্ত পেশাদার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও অখণ্ডতা রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং এ ধরনের ছোটখাটো পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। আটক পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হয়নি এবং খুব দ্রুতই তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই বিজিবি সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশজুড়ে বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। বিভিন্ন এলাকার মোট দুই হাজার সাতশ সাতাশটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত এই নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর জন্য প্রায় একুশটি অস্থায়ী বেজ ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।







































