ক্যাম্পাস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট ফাঁদ তৈরি করেছেন যা ডেঙ্গুর বাহক এইডিস মশা আগেভাগে শনাক্ত করতে সক্ষম। মাস্ট-ক্লাউডনেট নামের এই বিশেষ ফাঁদটি শব্দ ব্যবহার করে পুরুষ মশা আকর্ষণ করে এবং প্রজাতি শনাক্ত করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা যৌথভাবে এই অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।
এই ফাঁদটি স্ত্রী এইডিস মশার ডানার শব্দের মতো বিশেষ শব্দ তৈরি করে, যাতে আকৃষ্ট হয়ে পুরুষ মশা কাছে আসে। এরপর ফাঁদের ফ্যান মশাগুলোকে টেনে আঠালো কাগজে আটকে ফেলে এবং ক্যামেরা ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়। সেখানে এআই মডেলের মাধ্যমে মশার প্রজাতি শনাক্ত করে ড্যাশবোর্ডে ফলাফল প্রদর্শন করা হয়।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ মশা স্ত্রী মশার আগে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং প্রজননস্থলের কাছে অবস্থান করে। কোনো এলাকায় পুরুষ মশা বেশি ধরা পড়লে সেখানে নতুন মশার জন্ম হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, যা ডেঙ্গু ঝুঁকির আগাম সংকেত দেয়। গবেষণাগার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে বৈরী আবহাওয়ায় সফলভাবে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রতিটি ফাঁদ তৈরিতে প্রায় বারো হাজার টাকা খরচ হয় যা বাজারের অন্যান্য যন্ত্রের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যাটারির সহায়তায় এটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা সচল থাকতে পারে। আগামী বছরের মাঝামা সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বড় পরিসরে এটি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণাটি একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই উদ্ভাবনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে কোন এলাকায় মশা বাড়ছে তা জানা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।





































