আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা বিএনএসএস আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসে আয়োজিত ‘লহরা দো তেরঙ্গা’ পদযাত্রা থেকে তাকে আটক করেছিল পুলিশ। একই কর্মসূচিতে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকেও হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথা বলে অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ভোটার তালিকার নানা অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির প্রতিবাদ জানাতে মূলত ওই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে আসছে। শুক্রবারের ওই পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পথেই দিল্লি পুলিশ এই দুই রাজনৈতিক নেতাকে আটক করে। আটকের পর তাদের অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
সিজেপির আইনি শাখার প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান যে অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলেও তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান তখনো অজ্ঞাত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে আইনজীবীদেরও নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, আইসার পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিল যে নেহা বোরাকে সম্পূর্ণ একা একটি কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ আইনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর নেহাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শিক্ষার্থী নেত্রী নেহা বোরা পুলিশের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ছড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি অবিলম্বে অভিজিৎ দীপকেসহ সব আটক বিক্ষোভকারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। যারা কেবল নিজেদের ভোটাধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন, তাদের এভাবে থানায় আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।






































