মতামত ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সমাজকর্মী ও লেখক জুলিয়ান ফ্রান্সিস সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে নিজের দীর্ঘ পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। ২০০৭ সালের মার্চে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একটি বার্ষিক স্মারক বক্তৃতা দেওয়ার সময় তৌফিক ইমরোজের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন মানুষ দীর্ঘদিন আড়ালে রয়ে গেছেন দেখে তিনি সে সময় অত্যন্ত অবাক হয়েছিলেন। নিজের মনের জমে থাকা আবেগ ও অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করতে তৌফিক ভাই তাকে নানাভাবে সহায়তা করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একাত্তরের প্রত্যক্ষ ভয়াবহতা, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন আমলের দুর্নীতি নিয়ে নির্ভয়ে সত্য লেখার জন্য তৌফিক ইমরোজ খালিদী তাকে সবসময় উৎসাহিত করতেন। সরকারের সমালোচনা করে নিবন্ধ লেখার কারণে বন্ধুরা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, তৌফিক ভাই তাকে সাহস জুগিয়ে বলতেন যে কেউ বিরক্ত করলে তারা পাশে থাকবেন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস নিয়ে তিন খণ্ডের বিশাল সংকলন প্রকাশ করার মাধ্যমে তিনি সত্য ও নির্ভুল ইতিহাসের প্রতি তার একনিষ্ঠ গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সাংবাদিকতার বাইরেও তৌফিক ভাইয়ের বাসায় আয়োজিত চমৎকার বৈশাখী মধ্যাহ্নভোজের কথা স্মরণ করেছেন এই ব্রিটিশ লেখক। ওইসব আয়োজনে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ, লেখক, অভিনেতা, শিল্পী ও কূটনীতিকদের এক ছাদের নিচে একত্রিত করতেন। একবার অসুস্থতার কারণে বৈশাখী ভোজে অংশ নিতে না পারায়, তৌফিক ভাই পরদিনই তার জন্য বিশেষ খাবার পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। লেখকের এই স্মৃতিচারণে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আন্তরিকতা ও সত্যের পক্ষে অবিচল অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সত্য ও নির্ভুল ইতিহাসের প্রসারে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জুলিয়ান ফ্রান্সিস। ভয়কে জয় করে সাহসিকতার সঙ্গে সত্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা সব সময় প্রশংসনীয় ছিল। সমাজের নানা মতের মানুষকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তিনি বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার এই বহুমুখী গুণাবলী এবং সাংবাদিকতার প্রতি নিষ্ঠা তাকে সবসময় মানুষের স্মরণে রাখবে।





































