ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করার অংশ হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালে আনার বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশনের প্রথম সভায় এই উদ্যোগের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান সকল অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা ও জট দূর করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের নামে চলা দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি বন্ধের তাগিদ দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করেই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দাখিল এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এর ফলে তাদের আর ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের আলাদা দপ্তরে ঘুরতে হবে না এবং তারা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত এই লাইসেন্সকে বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা সমজাতীয় নামে রূপান্তর করার বিষয়টিও বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের চলমান জটিলতা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকরা বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যয়নপত্র দেয়, তখন নিরাপত্তা ছাড়পত্রের নামে অযৌক্তিক জটিলতা তৈরি করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ছাড়পত্র নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন।






































