জাতীয় ডেস্ক: সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মানবিক মূল্যবোধের আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাউল সাধক লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই লালন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। আয়োজনের শুরুতেই দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা সাঁইজির কালজয়ী গান পরিবেশন করে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মৌসুমী ইকবাল, আলেয়া বেগম, কাঙ্গালিনী সুফিয়া ও কানিজ খন্দকার মিতুসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী একক সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া সুমন রায়, পাখি বাউলিয়ানা এবং সুলতানা জামান জোছনার কণ্ঠেও লালনের গান শোনা যায়। অনুষ্ঠানটির শেষভাগে একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’-এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন।
স্মরণানুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তারা ভেদাভেদ ভুলে ধর্মীয় উগ্রতা দূর করা এবং সবার মধ্যে সমতার মানসিকতা ধারণ করার ওপর বিশেষ জোর দেন। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক আহমেদ শাকিল হাসমী। এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাকির হোসেন রোকন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন যে ধর্ম যার যার এবং কাউকে আঘাত না করে সবার মতকে শ্রদ্ধা করে সমতা আনা হলো লালনের প্রধান শিক্ষা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ এ সময় বলেন যে লালনের দর্শন কেবল আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
































