জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকার দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্টদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি আমিনবাজারে নিমগাছের চারা রোপণ করে ‘রূপান্তর’ নামক এই ব্যতিক্রমী প্রকল্পের শুভসূচনা করেন তিনি এবং এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো স্থান মানুষের কল্যাণে কতটা সুন্দরভাবে বদলে ফেলা সম্ভব, আমিনবাজারের এই রূপায়ণ তারই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। দুই মাস আগেও ময়লার স্তূপে পূর্ণ থাকা এই চার কিলোমিটার এলাকা এখন সুন্দর পরিবেশে রূপ নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন।
প্রায় দুই দশক ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লার বিশাল স্তূপ জমে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে উঠেছিল, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছিল। গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ওই এলাকার ভাগাড় ও দুর্গন্ধ নিজের চোখে দেখেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শুরু হয় এই বর্জ্য অপসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কর্মযজ্ঞ। বর্জ্য সরিয়ে জমি প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন ও একটি সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়।
চার কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই নতুন বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১ হাজার ৫০টি নিমগাছ, ৩ হাজার ৮১৫টি সুপারি গাছ, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম এবং ৭০০টি রঙ্গন গাছ। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করতে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল, ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার বায়ু টারবাইন এবং রাতের বেলা সৌন্দর্য বাড়াতে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। মাটির ক্ষয়রোধে সেখানে নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নার মতো বিভিন্ন ধরনের ঘাসও লাগানো হয়েছে, যা রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথের এই অংশটিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই সবুজায়নের সৌন্দর্য বজায় রাখতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতায় পরিবেশগত সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন। তিনি এই উদ্যোগটি শুধু চার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মহাসড়কের পাশের মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ফাঁকা জায়গাগুলোর পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা যেন জেলা প্রশাসনকে এ কাজে সার্বিক সহায়তা করেন, সে বিষয়েও তাগিদ দেন তিনি। ফরিদা খানমের এই কর্মতৎপরতা দেশের বাকি ৬৩ জেলার প্রশাসকদের জন্য এক অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।



































