ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরে ফেসবুকে ‘হুমকি’, বাবা-ছেলে ডিবি হেফাজতে

অপরাধ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এক কলেজছাত্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবির নিচে স্নাইপার নিয়ে মন্তব্য করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে। বর্তমানে আটক দুজনই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অভিযানকালে তাদের পরিবারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। পরে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও সন্দেহজনক কোনো আলামত পায়নি।

আটক তরুণের নাম আবু বকর সিদ্দিক এবং তার বাবা আয়নাল হক পেশায় একজন কৃষক। আবু বকর রাজশাহী নিউ গর্ভমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি পরিবহন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তার মা দাবি করেছেন যে তার ছেলে অত্যন্ত নিরীহ ও মেধাবী এবং তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক জানিয়েছেন যে তাদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে একটি দল আবু বকরের বাড়িতে গেলেও তাকে না পেয়ে তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আয়নালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পবা উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশির অংশ হিসেবে পুলিশ পরে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি পেনড্রাইভের মোড়ক জব্দ করে। তবে তার ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয় কারণ পরিবার দাবি করেছে যে তিনি ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন না।

আবু বকরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। কলেজ শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতার মতে তিনি অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি অন্য কোনো দলের সঙ্গে মিশছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আবু বকর তাদের কোনো কর্মী বা জনশক্তি নন। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড নেই। এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।

জনপ্রিয়

অভিষেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনে ধরা আলিস

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরে ফেসবুকে ‘হুমকি’, বাবা-ছেলে ডিবি হেফাজতে

প্রকাশিত ০৬:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এক কলেজছাত্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবির নিচে স্নাইপার নিয়ে মন্তব্য করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে। বর্তমানে আটক দুজনই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অভিযানকালে তাদের পরিবারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। পরে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও সন্দেহজনক কোনো আলামত পায়নি।

আটক তরুণের নাম আবু বকর সিদ্দিক এবং তার বাবা আয়নাল হক পেশায় একজন কৃষক। আবু বকর রাজশাহী নিউ গর্ভমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি পরিবহন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তার মা দাবি করেছেন যে তার ছেলে অত্যন্ত নিরীহ ও মেধাবী এবং তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক জানিয়েছেন যে তাদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে একটি দল আবু বকরের বাড়িতে গেলেও তাকে না পেয়ে তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আয়নালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পবা উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশির অংশ হিসেবে পুলিশ পরে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি পেনড্রাইভের মোড়ক জব্দ করে। তবে তার ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয় কারণ পরিবার দাবি করেছে যে তিনি ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন না।

আবু বকরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। কলেজ শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতার মতে তিনি অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি অন্য কোনো দলের সঙ্গে মিশছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আবু বকর তাদের কোনো কর্মী বা জনশক্তি নন। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড নেই। এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।