রাজনীতি ডেস্ক: প্রতিষ্ঠার প্রায় পৌনে দুই বছর পার হলেও এখনো জাতীয় সম্মেলন করতে পারেনি জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এর মধ্যেই দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে কমিটি পুনর্গঠন করেছে সংগঠনটি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই নতুন ও পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে কিছুটা বিন্যাস আনা হয়েছে।
প্রকাশিত নতুন কমিটি অনুযায়ী, দলের আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেনকে পুনর্বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পরিবর্তনের ফলে দলের নেতৃত্বে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, উত্তরের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে এই পদায়নকে কেন্দ্র করে তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা সামান্তা শারমিন শুরুতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থাকলেও, নতুন কমিটিকে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট করার বিষয়টি নিয়ে সামান্তা শারমিনের আপত্তি ছিল। নীতিগত এই মতবিরোধের কারণে তিনি ওই নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। এসব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলগত কারণে দলের শীর্ষ পদে এই রদবদল আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এই নতুন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ এই পরিবর্তন সংগঠনের আগামী দিনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে। নিয়মিত সম্মেলন ছাড়াই শীর্ষ পদে এই রদবদল দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নানা আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে দলটি কীভাবে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
































