সারাদেশ ডেস্ক: সাজেকে সড়ক অবরোধের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা এই অবরোধের কারণে শনিবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জেলার নয়টি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহন চলাচল বেশ কম লক্ষ করা গেছে। পিকেটাররা সকালের দিকে জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও কাঠের গুড়িতে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলে জানা যায়।
অবরোধের কারণে খাগড়াছড়িতে এসে বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা এবং বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষ। মাগুরা থেকে এসে মারিশ্যা যাওয়ার উদ্দেশ্যে আটকে পড়া ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেল হোসেন বায়েজিদ জানান যে তিনি গাড়ি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি কাজে মাটিরাঙা যেতে ইচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা গণেশ ত্রিপুরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে সাধারণ মানুষ এ ধরনের অবরোধের পরিবর্তে শান্তি চায়। এছাড়া সাজেক যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসে আটকে থাকা পর্যটক দেওয়ান ঐশী তিন দিন ধরে ঘুরেও গন্তব্যে যেতে না পেরে অবরোধ শেষ হলে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা জানান।
সড়কে বিভিন্ন স্থানে পিকেটাররা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া সতর্ক অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা তাদের উপস্থিতি টের পেতেই পিকেটাররা দ্রুত পালিয়ে যায়। শহরের চেঙ্গী স্কয়ার, স্বনির্ভর, জিরো মাইল এবং আলুটিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম নিয়মিত টহল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কায় কিসলু জানিয়েছেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে এবং রাতের ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো পুলিশি পাহারায় নিরাপদে শহরে নিয়ে আসা হয়েছে।
পাহাড়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘাত ও এর প্রতিবাদে ডাকা এই অবরোধের ফলে জনজীবন সাময়িকভাবে থমকে গেছে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমও কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি বড় কোনো সহিংসতায় রূপ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।





































