ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শাহজালাল মাজারে পঞ্চমবারের মতো দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে

সারাদেশ ডেস্ক: সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালালের (র.) মাজারের তিনটি ঐতিহ্যবাহী ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গোনা শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এই আর্থিক গণনার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছেন। দীর্ঘ এক মাস আট দিন বিরতির পর এই মাজারের দানের অর্থ পুনরায় গণনা করা হচ্ছে।

মাজারের পবিত্র দানবাক্স ও ডেগগুলো থেকে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের ভক্তদের নানা ধরনের মানত, দাবি-দাওয়া এবং আবেদনসংবলিত চিঠিপত্রও এখানে জমা পড়েছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সভায় দানের অর্থ নিয়মমাফিক প্রতিদিন গণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান যে, মাজারের হিসাব-নিকাশ পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী পদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এই পদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীদের বায়োডাটা বা সিভি জমা পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী মাসের মধ্যেই এই জনবল নিয়োগের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে মাজারের জমানো অর্থ আর মাসিক ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিদিন গণনা করা সম্ভব হবে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাজারের আর্থিক লেনদেনে শৃঙ্খলা আনতে অতীতেও নির্দিষ্ট সময় পরপর দানের টাকা গণনা করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ জুন প্রথম দফায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও তিন দফায় লক্ষাধিক টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত চার দফার হিসাব অনুযায়ী মাজারের তহবিল থেকে মোট দুই কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি জমা হয়েছিল। বর্তমান পঞ্চম দফার গণনা শেষ হলে মোট অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার এই পদক্ষেপ মাজারের তহবিল সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা চালু হলে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জনপ্রিয়

রোনানকে নিয়েই সাফের প্রাথমিক দল

শাহজালাল মাজারে পঞ্চমবারের মতো দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে

প্রকাশিত ০২:৫২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালালের (র.) মাজারের তিনটি ঐতিহ্যবাহী ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গোনা শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এই আর্থিক গণনার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রতিবারের মতো এবারও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছেন। দীর্ঘ এক মাস আট দিন বিরতির পর এই মাজারের দানের অর্থ পুনরায় গণনা করা হচ্ছে।

মাজারের পবিত্র দানবাক্স ও ডেগগুলো থেকে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের ভক্তদের নানা ধরনের মানত, দাবি-দাওয়া এবং আবেদনসংবলিত চিঠিপত্রও এখানে জমা পড়েছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সভায় দানের অর্থ নিয়মমাফিক প্রতিদিন গণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান যে, মাজারের হিসাব-নিকাশ পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী পদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এই পদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীদের বায়োডাটা বা সিভি জমা পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী মাসের মধ্যেই এই জনবল নিয়োগের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে মাজারের জমানো অর্থ আর মাসিক ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিদিন গণনা করা সম্ভব হবে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাজারের আর্থিক লেনদেনে শৃঙ্খলা আনতে অতীতেও নির্দিষ্ট সময় পরপর দানের টাকা গণনা করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ জুন প্রথম দফায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও তিন দফায় লক্ষাধিক টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত চার দফার হিসাব অনুযায়ী মাজারের তহবিল থেকে মোট দুই কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি জমা হয়েছিল। বর্তমান পঞ্চম দফার গণনা শেষ হলে মোট অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার এই পদক্ষেপ মাজারের তহবিল সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা চালু হলে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।