ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কবে থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী Logo শাহ আমানতে যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কেজি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার Logo নগদের মাধ্যমে নভোএয়ারের টিকেট কিনলে ১০% ছাড় Logo চুলের যত্নে নারিকেল তেল বনাম কাঠবাদামের তেল Logo হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে নানা তৎপরতা Logo সাজেকে সংকট নিরসনে প্রশাসনের ৩ সদস্যের কমিটি, চতুর্থ দিনেও সড়ক অবরোধ Logo ‘প্রেস্তিয়ান্নি আইনে’ লাল কার্ড দেখলেন নেইমার Logo সাহিত্য পুরস্কার থেকে বাদ যাবে না এআই দিয়ে লেখা বই Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন Logo আগামী নির্বাচন ‘অবশ্যই’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে ‘হতাশ’ শামা ওবায়েদ সমন্বয় চান দর-কষাকষিতে

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগামী নভেম্বর মাসে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন বা কপ৩১ সামনে রেখে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। দেশের ৩৩টি নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান ও জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ করা হয়।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান যে বাংলাদেশ কেবল তহবিলের জন্য দর-কষাকষি করতে চায় না বরং গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশকে বৈશ્વিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন এই সরকারি প্রতিনিধি। বিশ্বপরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালো করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি পৃথক জলবায়ু পরিবর্তন শাখা খোলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে অর্থের অভাবের অজুহাতে উন্নত দেশগুলো নতুন প্রতিশ্রুতি দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। অথচ যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে বা সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দে কোনো ধরনের কৃপণতা বা সীমাবদ্ধতা দেখা যায় না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য টেনে তিনি জানান যে ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ছিল দুই হাজার আটশ সাতাশি বিলিয়ন ডলার। কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অতি সামান্য হলেও এ দেশের মানুষকে প্রতিদিন মারাত্মক জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

আসন্ন কপ সম্মেলনে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেন। এর মধ্যে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থপ্রাপ্তি সহজ করা, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড দ্রুত চালু করা এবং কৃষি ও পানির নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্যতম। উন্নত দেশগুলোর এই সহায়তা ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বরং অনুদান হিসেবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নাগরিক সমাজের প্রকাশিত সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সংলাপে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র জোরালোভাবে তুলে ধরতে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

জনপ্রিয়

কবে থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে ‘হতাশ’ শামা ওবায়েদ সমন্বয় চান দর-কষাকষিতে

প্রকাশিত ০৪:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগামী নভেম্বর মাসে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন বা কপ৩১ সামনে রেখে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। দেশের ৩৩টি নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান ও জাতীয় অবস্থানপত্র প্রকাশ করা হয়।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান যে বাংলাদেশ কেবল তহবিলের জন্য দর-কষাকষি করতে চায় না বরং গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশকে বৈશ્વিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন এই সরকারি প্রতিনিধি। বিশ্বপরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালো করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি পৃথক জলবায়ু পরিবর্তন শাখা খোলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে অর্থের অভাবের অজুহাতে উন্নত দেশগুলো নতুন প্রতিশ্রুতি দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। অথচ যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে বা সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দে কোনো ধরনের কৃপণতা বা সীমাবদ্ধতা দেখা যায় না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য টেনে তিনি জানান যে ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ছিল দুই হাজার আটশ সাতাশি বিলিয়ন ডলার। কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অতি সামান্য হলেও এ দেশের মানুষকে প্রতিদিন মারাত্মক জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

আসন্ন কপ সম্মেলনে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেন। এর মধ্যে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থপ্রাপ্তি সহজ করা, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড দ্রুত চালু করা এবং কৃষি ও পানির নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্যতম। উন্নত দেশগুলোর এই সহায়তা ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বরং অনুদান হিসেবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নাগরিক সমাজের প্রকাশিত সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সংলাপে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র জোরালোভাবে তুলে ধরতে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।