অর্থনীতি ডেস্ক: রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশ ব্যবসায়ী মিয়া সাত্তার। তিনি মস্কোয় রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক বৈঠকে এই দায়িত্ব লাভ করেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রুশ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মস্কোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও হালকা শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে সোলার প্ল্যান্ট ও শস্য গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ঢাকায় রাশিয়ার সাবেক ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের খালি জায়গায় একটি বিশেষ শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে প্রধান বাধা হিসেবে পণ্যের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে চিহ্নিত করেছেন মিয়া সাত্তার। এর স্থায়ী সমাধানে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় এবং পারস্পরিক সনদ স্বীকৃতির বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি। রুশ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও খাদ্যপণ্য আমদানি করছে এবং সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহের অ্যাক্রেডিটেশনের কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো এবং এতে বিভিন্ন রুশ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুসময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই নতুন বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ফলে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন এই কাউন্সিল চালুর ফলে ব্যবসায়িক খাতের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচিগুলো আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। নিয়মিত বিটুবি যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।





































