অপরাধ ডেস্ক: গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সি এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপাধ্যক্ষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের সামনে নিজের জবানবন্দি প্রদান করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে যে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং চূড়ান্ত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এই ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের পর কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন। এই হুমকির মুখে মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে শিশুটি টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি তার ওপর ঘটা শারীরিক হেনস্থার বিষয়টি খুলে বলে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সত্যতা জানতে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের মুখোমুখি হন। ওই সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে উত্তেজনার একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। এই মারধর ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন এবং শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা পাল্টা মামলায় ১৭ লাখ টাকা লুট ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গে যাওয়া লোকজনের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন যে একদল লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে শিশুটির বাবা একটি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে তিনি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে যাননি, বরং মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মেয়ের ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।




































