ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কবি নজরুল কলেজে সাবেক বিএনসিসি ক্যাডেটদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo ‎ইবি শিক্ষিকা হত্যাকান্ডে কুবি শিক্ষক সমিতির তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ Logo বাকৃবিস্থ বৃহত্তর দিনাজপুর সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল এবং কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা Logo কুবি শিক্ষককে অপহরণের ঘটনায় অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা Logo জাবিতে স্কাউটসের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও ছাত্র নেতৃবৃন্দের সম্মানে ডাকসুর ইফতার মাহফিল Logo পাবিপ্রবি গেটসংলগ্ন সাঈদের দোকানের ইফতারে আবারও মিললো গোবরে পোকা Logo বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাকসুর প্রতিনিধি সম্মেলন  Logo যবিপ্রবিতে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল Logo বেগম জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় জাবি ছাত্রদলের ইফতার

জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ভোটের প্রচারণা চালানোয় বিএনপি নেতার হেনস্থার শিকার ইবি শিক্ষার্থী

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৪:২৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৬২ বার পঠিত

জুমার খুতবায় আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় বাধা প্রদান ও মারতে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার পিয়ারপুর ক্লাব মোড় বায়তুন নুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে খুতবা প্রদানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সরকারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় ইমাম-খতিবদের যুক্ত হওয়ার নির্দেশনার অংশ হিসেবে জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ। এ সময় তাকে বাধা প্রদান ও মারমুখী হওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিএনপি নেতা, তার পুত্র ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা— জিয়ারখী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হরিণ, তার বড় ছেলে স্বাধীন এবং সহযোগী শফিকুল ও আলা। অভিযুক্ত হরিণের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিয়ারখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুতবা চলাকালে ইমাম খালিদ সাইফুল্লাহ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের পক্ষে কথা বললে বিএনপি নেতা হরিণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান এবং তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর একপর্যায়ে হরিণের বড় ছেলে স্বাধীন ও তার সহযোগী শফিকুল এবং আলা খালিদ সাইফুল্লাহকে মারতে তেড়ে গেলে মুসল্লিদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।

ভুক্তভোগী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমি জুমার আলোচনায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বক্তব্য দিই। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা হরিণ, তার ছেলে স্বাধীনসহ কয়েকজন বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারতে তেড়ে আসেন। তখন সাধারণ মুসল্লিরা তাদের থামিয়ে দেন এবং আমাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। পরে আমি নামাজ শেষ করি। এই অপমানজনক ঘটনার বিচার চাই। আমার কথা বলার স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি আমার নিরাপত্তা চাই।”

অভিযুক্ত স্বাধীন মারমুখী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযাত্রাকে বলেন, “খুতবার ভেতরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়ে বলতেছিলেন। আমার আব্বা মুরুব্বি মানুষ, সে বলেছে—বাবা এসব আন্তর্জাতিক বিষয়ে বলার দরকার নেই, তুমি কোরআন-হাদিসের আলোচনা করো। উনি আবার ফট করে বলে ফেলেছেন—আপনি মুরুব্বি মানুষ, আপনি বেয়াদবি করলেন। উনি জামায়াতের ভোটও চেয়েছেন। এইটা নিয়েই ওই দুই কথা হয়েছিল। তারপর উনিও হাত ধরে মাফ চাইলেন, আমরাও নামাজ কালাম পড়ে চলে আসলাম। এরপরে আর তেমন কিছু হয় নাই।”

বায়তুন নূর মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার শাহেদ খান অভিযাত্রাকে বলেন, “জুমার খুতবার শেষের দিকে কয়েক মিনিট হ্যাঁ-ভোট না-ভোট সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। হ্যাঁ-ভোটের কী সুবিধা আছে, সে বিষয়ে। তখন স্থানীয় এক মুরুব্বি উঠে বলে, আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইলেন কেন?‌। এর পরে কথা কাটাকাটি ও তর্ক করছিলো যারা মূলত আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করতো। তারা থাপ্পড়-টাপ্পড় দিতে গিয়েছিল তখন আমরা সবাই যেয়ে ঠেকিয়েছি। রাজনৈতিক পরিচয় কথা জিজ্ঞেস করলে বলেনতারা আগে যে যাই করুক এখন সব বিএনপির সঙ্গে যোগ দিয়েছে।”

জনপ্রিয়

কবি নজরুল কলেজে সাবেক বিএনসিসি ক্যাডেটদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ভোটের প্রচারণা চালানোয় বিএনপি নেতার হেনস্থার শিকার ইবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত ০৪:২৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জুমার খুতবায় আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় বাধা প্রদান ও মারতে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার পিয়ারপুর ক্লাব মোড় বায়তুন নুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে খুতবা প্রদানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সরকারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় ইমাম-খতিবদের যুক্ত হওয়ার নির্দেশনার অংশ হিসেবে জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ। এ সময় তাকে বাধা প্রদান ও মারমুখী হওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিএনপি নেতা, তার পুত্র ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা— জিয়ারখী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হরিণ, তার বড় ছেলে স্বাধীন এবং সহযোগী শফিকুল ও আলা। অভিযুক্ত হরিণের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিয়ারখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুতবা চলাকালে ইমাম খালিদ সাইফুল্লাহ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের পক্ষে কথা বললে বিএনপি নেতা হরিণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান এবং তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর একপর্যায়ে হরিণের বড় ছেলে স্বাধীন ও তার সহযোগী শফিকুল এবং আলা খালিদ সাইফুল্লাহকে মারতে তেড়ে গেলে মুসল্লিদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।

ভুক্তভোগী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমি জুমার আলোচনায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বক্তব্য দিই। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা হরিণ, তার ছেলে স্বাধীনসহ কয়েকজন বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারতে তেড়ে আসেন। তখন সাধারণ মুসল্লিরা তাদের থামিয়ে দেন এবং আমাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। পরে আমি নামাজ শেষ করি। এই অপমানজনক ঘটনার বিচার চাই। আমার কথা বলার স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি আমার নিরাপত্তা চাই।”

অভিযুক্ত স্বাধীন মারমুখী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযাত্রাকে বলেন, “খুতবার ভেতরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়ে বলতেছিলেন। আমার আব্বা মুরুব্বি মানুষ, সে বলেছে—বাবা এসব আন্তর্জাতিক বিষয়ে বলার দরকার নেই, তুমি কোরআন-হাদিসের আলোচনা করো। উনি আবার ফট করে বলে ফেলেছেন—আপনি মুরুব্বি মানুষ, আপনি বেয়াদবি করলেন। উনি জামায়াতের ভোটও চেয়েছেন। এইটা নিয়েই ওই দুই কথা হয়েছিল। তারপর উনিও হাত ধরে মাফ চাইলেন, আমরাও নামাজ কালাম পড়ে চলে আসলাম। এরপরে আর তেমন কিছু হয় নাই।”

বায়তুন নূর মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার শাহেদ খান অভিযাত্রাকে বলেন, “জুমার খুতবার শেষের দিকে কয়েক মিনিট হ্যাঁ-ভোট না-ভোট সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। হ্যাঁ-ভোটের কী সুবিধা আছে, সে বিষয়ে। তখন স্থানীয় এক মুরুব্বি উঠে বলে, আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইলেন কেন?‌। এর পরে কথা কাটাকাটি ও তর্ক করছিলো যারা মূলত আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করতো। তারা থাপ্পড়-টাপ্পড় দিতে গিয়েছিল তখন আমরা সবাই যেয়ে ঠেকিয়েছি। রাজনৈতিক পরিচয় কথা জিজ্ঞেস করলে বলেনতারা আগে যে যাই করুক এখন সব বিএনপির সঙ্গে যোগ দিয়েছে।”