ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট Logo কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ‘আমি প্রবাসী’ ও ‘কে-ভিলেজ’-এর চুক্তি Logo জাবিতে রসায়ন সংসদের সহ-সভাপতি রিয়াদ, সম্পাদক কনক Logo পদোন্নতি বোর্ডে দীর্ঘ স্থবিরতা, ববিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ Logo কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্ক কমিটিতে কুবির দুই শিক্ষক Logo প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় জাবিতে ডিআইএসের যাত্রা শুরু Logo মহানবীকে (সা.)–কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন চান সংসদ সদস্য হানজালা Logo নববর্ষে খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ববি ছাত্রদলের Logo শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ই-সিগারেট আসক্তি, নিষিদ্ধের দাবি Logo মেয়ে সেজে প্রতারণা ও যৌন সহিংসতা, ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ গ্রেপ্তার

তারেক রহমানের সভা ঘিরে খুবির কর্মকর্তাদের দপ্তর ফাঁকা, সেবা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

খুলনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন কর্মকর্তার দপ্তর ফাঁকাসহ তালাবদ্ধ দেখা গেছে। এতে প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের চিত্র কিছুটা পরিবর্তিত হলেও দুপুরের আগ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না। ঊর্ধ্বতন শিক্ষক-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে ওমরাহ হজ্জের জন্য আগামী ৬ তারিখ পর্যন্ত ছুটিতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০–এর ৫১(২) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতবাদ পোষণে স্বাধীন হলেও সেই মতবাদ প্রচার করতে পারেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিরাপত্তা প্রহরি, পরিছন্ন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো ফাঁকা থাকার বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, আজ তারেক রহমানের জনসভায় গিয়েছেন। কাউকে পাওয়া যাবে না।

নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে তারেক রহমানের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশকে ঘিরে ওই এলাকায় জনসমাগম বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার আশপাশে বসবাসরত কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কারণে সকালে দপ্তরে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “সকাল থেকে দপ্তরে এসেও কাজ করতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় আমাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।”

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেট শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি বিএনপির সমাবেশস্থলে গিয়েছিলেন, তবে উদ্দেশ্য ছিল ট্রেজারারের বাসায় দাওয়াতে অংশগ্রহণ । যেহেতু ট্রেজারার স্যারের বাসার পাশেই সমাবেশ স্থল তাই খাওয়া দেওয়ার পর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখেন।

‎অন্যদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সময়ে নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সচিব বলেন, আমার মেয়ে ওখানে পড়াশোনা করে তার সাথে দেখা করতে যাওয়া ছিল মূল উদ্দেশ্য।



‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুর উন নবী বলেন, আমার বাসা খালিশপুর এলাকায় এবং সমাবেশস্থল থেকে পাশেই । সে কারণে আলাদাভাবে সেখানে যাওয়ার প্রশ্ন আসে না। বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার বাসায় কোনো দাওয়াতের আয়োজন ছিল না।

‎সমাবেশের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকা এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, স্লোগান দেওয়া কিংবা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে এনে বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে উপস্থিত হওয়াকে প্রচারণার আওতায় গণ্য করা হয় না। সুতরাং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সঙ্গে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়।

জনপ্রিয়

রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট

তারেক রহমানের সভা ঘিরে খুবির কর্মকর্তাদের দপ্তর ফাঁকা, সেবা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত ০৯:২৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন কর্মকর্তার দপ্তর ফাঁকাসহ তালাবদ্ধ দেখা গেছে। এতে প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের চিত্র কিছুটা পরিবর্তিত হলেও দুপুরের আগ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না। ঊর্ধ্বতন শিক্ষক-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে ওমরাহ হজ্জের জন্য আগামী ৬ তারিখ পর্যন্ত ছুটিতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০–এর ৫১(২) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতবাদ পোষণে স্বাধীন হলেও সেই মতবাদ প্রচার করতে পারেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিরাপত্তা প্রহরি, পরিছন্ন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো ফাঁকা থাকার বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, আজ তারেক রহমানের জনসভায় গিয়েছেন। কাউকে পাওয়া যাবে না।

নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে তারেক রহমানের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশকে ঘিরে ওই এলাকায় জনসমাগম বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার আশপাশে বসবাসরত কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কারণে সকালে দপ্তরে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “সকাল থেকে দপ্তরে এসেও কাজ করতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় আমাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।”

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেট শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি বিএনপির সমাবেশস্থলে গিয়েছিলেন, তবে উদ্দেশ্য ছিল ট্রেজারারের বাসায় দাওয়াতে অংশগ্রহণ । যেহেতু ট্রেজারার স্যারের বাসার পাশেই সমাবেশ স্থল তাই খাওয়া দেওয়ার পর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখেন।

‎অন্যদিকে, সমাবেশ চলাকালীন সময়ে নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সচিব বলেন, আমার মেয়ে ওখানে পড়াশোনা করে তার সাথে দেখা করতে যাওয়া ছিল মূল উদ্দেশ্য।



‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুর উন নবী বলেন, আমার বাসা খালিশপুর এলাকায় এবং সমাবেশস্থল থেকে পাশেই । সে কারণে আলাদাভাবে সেখানে যাওয়ার প্রশ্ন আসে না। বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার বাসায় কোনো দাওয়াতের আয়োজন ছিল না।

‎সমাবেশের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকা এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, স্লোগান দেওয়া কিংবা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে এনে বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে উপস্থিত হওয়াকে প্রচারণার আওতায় গণ্য করা হয় না। সুতরাং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সঙ্গে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়।