বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি (আপগ্রেডেশন) বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী বছরে চারবার বোর্ড বসার কথা থাকলেও গত দুই বছরে একবারও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপাচার্যের কাছে দেওয়া এক লিখিত চিঠিতে জানান, বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালার ১৪ ধারা অনুযায়ী বছরে চারবার বোর্ড বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে একটি বোর্ডও অনুষ্ঠিত না হওয়া নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন তারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে সাক্ষাৎ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে নানা কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে পদোন্নতি না হওয়ায় অনেকের জ্যেষ্ঠতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাঠামোয় জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারা বলেন, চলমান এই অচলাবস্থা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে, যার প্রভাব দাপ্তরিক কার্যক্রমেও পড়ছে।
এ পরিস্থিতিকে শুধু প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং সংশ্লিষ্টদের প্রতি অবিচার হিসেবেও দেখছেন তারা।
কর্মকর্তাদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ‘শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়ন সংক্রান্ত ন্যূনতম যোগ্যতার নির্দেশিকা-২০২৩’ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী চাকরি, পেনশন, পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়ন সংক্রান্ত বিধি-বিধান সংশোধন ও প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং সেবার মান উন্নত করতে দ্রুত আপগ্রেডেশন বোর্ড আয়োজনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জুনায়েদ/ববি


















