বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তত ২০ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী।
একই সঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (২ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাসির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে মোশাররফ হোসেন সভাপতি, আরিফ হোসেন শান্ত সাধারণ সম্পাদক এবং মিজানুর রহমান মিজান সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২৩৯ জন ভোটারের অংশগ্রহণে ওই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রলীগের অন্তত ২০ জন সক্রিয় কর্মীকে সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একই ব্যক্তির নাম দুইবার অন্তর্ভুক্ত করা, সিনিয়র-জুনিয়র ব্যাচের ভারসাম্য রক্ষা না করা, সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয়দের পদায়ন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সম্পাদকীয় পদ দেওয়ার মতো বিষয়ও সামনে এসেছে।
ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল, মো. মিঠু, তৌসিফ আলম খান ও সোহেল রানা। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইত্তেসাফ-আর-রাফি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. বিল্লাল, আরমান হোসেন, মহিউদ্দিন হক ও জিহাদ খলিফার নাম রয়েছে।
সাংগঠনিক পদে প্রিতম দাস, বর্ণ বরন সরকার, শাহ্ তাকবীর আহমেদ সিয়াম ও মেহেদী হাসানের নামও এসেছে।
এছাড়া দপ্তর সম্পাদক রিফাত আহমেদ পিয়াস, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মহিমা জাহান মুনাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ কর্মীরা।
এ বিষয়ে ববি শাখা ছাত্রদলের নির্বাচিত সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা কেন্দ্রকে যে সুপারিশকৃত তালিকা পাঠিয়েছিলাম, ঘোষিত কমিটির সঙ্গে তার ৯০ শতাংশেরও মিল নেই। এটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের কাজ। আমাদের দেওয়া তালিকাকে অবমূল্যায়ন করে তারা নিজেদের মতো করে কমিটি গঠন করেছে। আলোচনার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নিজস্ব সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জুনায়েত/ববি














